প্রবল বৃষ্টিতে জলে ডুবল খেত, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি

130

সামসী: ইয়াসের প্রভাবে নিম্নচাপের কারণে গত তিন দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি মালদা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। মাঠ ঘাট সব ডুবে গিয়ে কার্যত বন্যার আকার নিয়েছে চারিদিক। এলাকার বেশিরভাগই পুকুর ভর্তি মাছও ভেসে গেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বকসি। তিনি এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রবল বৃষ্টিতে মাঠের সব ফসল জলের তলায়। কাটা ধান জলে ভাসছে। কৃষকদের করুণ অবস্থা। মানবিক মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। উনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ অবশ্যই দিবেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি এলাকার কৃষকদের পাশে আছি। উনাদের আশ্বস্ত করছি।‘

অন্যদিকে গত দু’সপ্তাহ আগে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব‍্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন চাঁচল মহকুমা এলাকার চাষিরা। শিলা বৃষ্টিতে মাঠের পাকা ধান ঝরে পড়েছিল, পাট ও সবজি খেতের নষ্ট হয়েছিল। প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন কৃষকরা। এরপর ফের ইয়াসের ফলে নিম্নচাপ। ঝোড়ো হওয়ার পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টি। মাঠের সব পাকা ধান ও কাটা ধান সবই জলের তলে। সেই কারণে চিন্তায় পড়েছেন চাঁচল মহকুমার রতুয়া, সামসী, মালতীপুর ও চাঁচল এলাকার চাষিরা।

- Advertisement -

রতুয়ার চাঁদমুনি-২ জিপির এক কৃষক ইমদাদুল হক জানান, শুধু তাঁর নয়,এলাকার সকলেরই ধানের খেত জলে ডুবে গেছে। কালবৈশাখীর পর যেটুকু পাওয়ার আশা ছিল, সেটুকুও আর মিলবে না। চাঁচল-২ ব্লকের অন্য এক কৃষক মহম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘এবার দু বিঘে বোরো ধান ছিল। কিন্তু বর্তমানে সব জলের তলায়। এবার কি খাবে পরিবার তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।‘

জেলা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানিয়ে বলেন, ‘গত দু’সপ্তাহ আগের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গোটা চাঁচল মহকুমার ছয়টি ব্লকজুড়ে আনুমানিক ৩০ হাজার হেক্টর বোরো ধান ও ১৮ হাজার হেক্টর পাট খেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমান আনুমানিক কয়েকশো কোটি ছাড়িয়ে যাবে। চাষিরা যাতে ক্ষতিপূরণ পান সে বিষয়টি কৃষি দপ্তর ও ডিএম সাহেবের সাথে আলোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি দপ্তরে কৃষকদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। যেসব কৃষক, কৃষক বন্ধুর টাকা পান তাঁরা সকলেই বাংলা শস্য বীমা যোজনার আওতায় ক্ষতিপূরণ যাতে পান সে বিষয়টি দেখা হবে। এছাড়া রাজ্য সরকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘোষণা করলে আলাদাভাবে ক্ষতিপূরণ মিলবে।‘