বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মাঠ এখন চাষের খেত

290

রহিদুল ইসলাম  মেটেলি : ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ। সেই যুদ্ধের সময় মেটেলি চা বাগানের মূর্তি ডিভিশনের মাঠে যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ হয়েছিল। ইতিহাস বিজড়িত সেই মাঠ এখন চাষের খেতে পরিণত হয়েছে। মাঠে তৈরি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধ অবহেলায় পড়ে রয়েছে। অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ ওই মাঠে আর্থমুভার নামিয়ে চাষ শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি সেই মাঠ পরিদর্শনে যান নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা, মাটিয়ালি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিক্রম রুনডা প্রমুখ। শুক্রা মুন্ডা বলেন, যে-কোনও মূল্যে ইতিহাস বিজড়িত ওই মাঠ ও স্মৃতিসৌধগুলিকে রক্ষা করতে হবে। চা বাগান কর্তৃপক্ষ মাঠে আর্থমুভার নামিয়ে চাষ শুরু করেছে দেখলাম। বিষয়টি জলপাইগুড়ি জেলা শাসককে জানানো হয়েছে। মাঠ রক্ষার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব। মাঠটিকে পর্যটন মানচিত্রে নিযে আসার জন্যও পদক্ষেপ করা হবে। য়দিও মাঠ দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। মেটেলি চা বাগানের ম্যানেজার এস এস ধিঁলো বলেন, ওই মাঠ বাগানের নামে রেকর্ড করা আছে। আমরা সরকারকে খাজনাও দিই। ঐতিহাসিক মাঠ বলে আমাদের কাছে কোনও রেকর্ড নেই। বাগানের স্বার্থে আমরা ওখানে চাষ করছি। অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মাঠ থেকে যোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই সময় মাঠে ছোট  বিমানও অবতরণ করত। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ইতিহাস বিজড়িত এই মাঠকে ভুলতে পারেননি ভারত ও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। গত এক দশকে প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধারা একাধিকবার মাঠে এসেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ও প্রশাসনিক উদ্যোগে একসময় মুক্তিযোদ্ধাদের এই মাঠে নিয়ে এসে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি স্মৃতিচারণার অনুষ্ঠান হত। গত ৬-৭ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের আসা বন্ধ হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ মাঠটিকে নিজেদের কাজে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে ইতিহাস বিজড়িত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি, কাহিনী আজ মুছে যাওযার মুখে।

- Advertisement -

বাগানের শ্রমিক নেতা রবার্ট মুন্ডা বলেন, ছোট থেকেই শুনে এসেছি ওই মাঠে মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। বিমানও নামত মাঠে। মাঠে দুটি স্মৃতিসৌধ বানানো রয়েছে। আগের মালিক ওই মাঠে হাত দিতেন না। নতুন মালিক আসার পর ঐতিহাসিক ওই মাঠে চাষ শুরু করে দিয়েছে। মাঠকে পর্যটন মানচিত্রে আনার দাবি জানাচ্ছি। মালের মহকুমা শাসক বিবেক কুমার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেটেলির ভারপ্রাপ্ত ভূমিসংস্কার আধিকারিক দীপংকর রায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।