মারাদোনার ৬৬৫ কোটির টাকার সম্পত্তি নিয়ে উত্তরাধিকারীদের লড়াই

785

বুয়েনস আয়ার্স : যাঁদের ধারণা ছিল দিয়েগো মারাদোনার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বিতর্কিত জীবন নিয়ে যাবতীয় খবরের ওপর ধামাচাপা পড়বে, তাঁরা একেবারেই ভুল করেছেন। এই মহাপ্রতিভাবান ফুটবলার চলে গিয়েছেন মাত্র দিনচারেক হল, কিন্তু ইতিমধ্যেই তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মারাদোনার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যে ধরনের গণ্ডগোলের সৃষ্টি হয়েছে, তা খুব সহজে থামবে বলে মনে হচ্ছে না। তার থেকেও বড় কথা, আর্জেন্টিনা সরকারের যে দপ্তরগুলি এই সম্পত্তির ভাগবাঁটোয়ারা সংক্রান্ত কাজগুলি করে, তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের বিভিন্ন কোণে ছড়ানো মারাদোনার অবৈধ সন্তানের সংখ্যা। স্ত্রী ছাড়াও মারাদোনার বান্ধবীর সংখ্যা ছিল অগুনতি এবং তাঁদের অনেকেই মারাদোনার সন্তানধারণ করেছেন বলে দাবি করেছেন। জীবদ্দশায় মারাদোনা তাঁদের কাউকে কাউকে বৈধতা দিয়েছেন, আবার কাউকে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের অনেকেই যদি এখন সম্পত্তির দাবি করেন, তাহলে মাথায় হাত পড়বে কর্তৃপক্ষের।

ঠিক কত টাকার সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন মারাদোনা, ৬০ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে? ফুটবল জীবনে এই অসাধারণ খেলোয়াড় রোজগার করেছেন কোটি কোটি টাকা, আবার নষ্টও করেছেন তার অধিকাংশ। তবুও সূত্র বলছে, মারাদোনা যা রেখে গিয়েছেন, তার পরিমাণ প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার। যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ৬৬৫ কোটি টাকা। মারাদোনার পারিবারিক জীবন ছিল অশান্তিতে ভরা, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ক্লদিয়া ও দুই কন্যা দালমা ও গিয়ানিয়ার সঙ্গে তাঁর বহুবার বিশ্রী ঝগড়া হয়েছে। ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, মারাদোনা নাকি বলেছিলেন, কাউকে তিনি একটা টাকাও দেবেন না, প্রয়োজনে সব টাকা দান করে যাবেন। যদিও আর্জেন্টিনার আইন অনুযায়ী, কেউ নিজের সম্পত্তির পাঁচ ভাগের একভাগ মাত্র দান করতে পারেন। এক মারাদোনা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁকে নাকি প্রাক্তন ফুটবলার বলেন, বয়স হলে একজন মানুষের মনে হয় সে তার যাবতীয় সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন করে যাবে। আমি এদের কাউকে কিছু দেব না। জীবনে যা রোজগার করেছি, সব দান করে দিয়ে যাব। সেই সময় তাঁর দ্বিতীয় কন্যা গিয়ানিয়ার সঙ্গে চরম অশান্তি চলছিল। পরে অবশ্য মিটমাট হয়ে যায়, গিয়ানিয়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবাকে নিয়ে নানারকম ভালো ভালো কথা লিখতে থাকেন শেষ দিন অবধি।

- Advertisement -

কিন্তু মারাদোনা চলে যাওয়ার পরেই বোমা ফাটিয়েছেন এক ১৯ বছরের যুবক, নাম জোস নুনেজ। একটি মামলা করে তিনি দাবি করেছেন, মারাদোনার মৃতদেহ যেন কবর থেকে তুলে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। কারণ তিনি প্রমাণ করতে চান, তিনি আদতে মারাদোনার অবৈধ সন্তান। তাঁর মার সঙ্গে নাকি একটা সময় মারাদোনার সম্পর্ক ছিল এবং এই সম্পর্কের জেরেই নুনেজের জন্ম। কিন্তু তাঁর মা মাত্র ২৩ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা গিয়েছেন। নুনেজ এখন বলছেন, টাকাপয়সা নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন, তিনি শুধু তাঁর পিতৃপরিচয় ফিরে পেতে চান। আদালত এই ব্যাপারে কী ভাবছে, তা এখনও অবশ্য জানা যায়নি। হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, মারাদোনার বহুপরিচিত দুই মেয়ে ছাড়াও আরও দুই ছেলে ও তিন কন্যা ছিল, যারা জন্মেছে মারাদোনার বিভিন্ন সময়ের চার বান্ধবীর গর্ভে। তবে এই হিসাব শুধু তাদের নিয়ে, যাদের কথা মারাদোনা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এর বাইরে তাঁর কত অবৈধ সন্তান ছিল, তা প্রায় কেউই জানে না। আর্জেন্টিনায় ঠাট্টা করে বলা হয়, শুধু অবৈধ সন্তানদের দিয়ে মারাদোনা একটি আস্ত ফুটবল টিম নামিয়ে দিতে পারতেন। এদের সবাই যদি এখন সম্পত্তির দাবি নিয়ে হাজির হয়, তাহলে মামলায় জেরবার হয়ে যেতে হবে সবাইকে।