প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে কর্মী নিয়োগের ফাইল লোপাট

164

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : আইসিডিএসের পর এবার আলিপুরদুয়ারে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের কর্মী নিয়োগ নিয়ে বড়সড়ো দুর্নীতির আশঙ্কা। গায়েব হয়ে গিয়েছে সংসদের কর্মী নিয়োগের ফাইল। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম ভেঙে ট্রেজারিতে জমা থাকা চাকরিপ্রার্থীদের সিল করা উত্তরপত্র তুলেছেন সংসদ চেয়ারপার্সন গার্গী নার্জিনারি। আবার ট্রেজারি থেকে তোলার কয়েকদিন পর উত্তরপত্রগুলি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন তিনি। ট্রেজারি থেকে তোলা এবং পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার মাঝের কয়েকদিন উত্তরপত্রগুলি কোথায় ছিল সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না কেউই। ওই সময়ে মধ্যে উত্তরপত্রে হেরফের করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অনুপ চক্রবর্তী চেয়ারপার্সন থাকাকালীন সংসদের কর্মী নিয়োগের পরীক্ষা হয়। সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, করণিক, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী- তিন বিভাগের পাঁচটি পদের জন্য পরীক্ষা হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেই সময় নিয়োগ হয়নি। সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নও করা হয়নি। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সিল করে ট্রাংকে ভরে ট্রেজারিতে রেখে দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম বলছে, জমা থাকা উত্তরপত্র তোলা বা মূল্যায়নের জন্য নিয়োগ কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধ্যতামূলক।

- Advertisement -

শিক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, ২০১৯ সালে গঠিত নিয়োগ কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই ওই নিয়োগ সংক্রান্ত যে কোনও কাজের জন্য নতুন করে নিয়োগ কমিটি তৈরি করতে হবে। তার জন্য শিক্ষা দপ্তরের লিখিত অনুমোদন জরুরি। সেই অনুমোদন পেলে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তবেই ট্রেজারি থেকে উত্তরপত্র তোলা সম্ভব। নতুন নিয়োগ কমিটি তৈরির কোনও প্রক্রিয়া বা সেই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ এখন পর্যন্ত জেলা বিদ্যালয় সংসদে আসেনি বলেই জানিয়েছেন আধিকারিকরা। ফলে কোনও পরিস্থিতিতেই সংসদ চেয়ারপার্সন বা কোনও আধিকারিক ট্রেজারি থেকে উত্তরপত্র তুলতে পারবেন না।

আবার নতুন কমিটি তৈরি হলেও নিয়ম অনুসারে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক হবেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক)। যদিও উত্তরপত্র তোলা বা পুলিশে জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেই জানিয়েছেন ডিআই সুমিত সরকার। তাঁর দাবি, ওই নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। অনেকবার চেষ্টা করেও তিনি নাকি ফাইল পাননি। ডিআই-এর বক্তব্য, যা হয়েছে সবটাই চেয়ারপার্সন এবং ট্রেজারি অফিসারের মধ্যে। আমি ওই বিষয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে। তাই যা বলার ওঁরাই বলতে পারবেন। উত্তরপত্র তোলার বিষয়ে সংসদে কোনও আলোচনাও হয়নি।

আলিপুরদুয়ারের ট্রেজারি অফিসার তাপস রায়চৌধুরীর কথা, মাসদুয়েক আগে সিল উত্তরপত্রগুলি তোলা হয়েছিল। সংসদের জিনিস সংসদ নিয়ে গিয়েছে। আমাদের কিছু করণীয় নেই। পরে কী হয়েছে জানা নেই। উত্তরপত্রগুলি আমাদের কাছে দ্বিতীয়বার আর জমা হয়নি। কেন উত্তরপত্র তোলা হল, কেনই বা সেগুলি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হল তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন গার্গী। চেয়ারপার্সন জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতি হয়েছে কি না বা কী হয়েছে, কেন হয়েছে, সেগুলি নিয়ে যদি শিক্ষা দপ্তর আমার কাছে জানতে চায় তখন জানাব। ট্রেজারি থেকে উত্তরপত্র তোলার বিষয়টিতে যে অস্বচ্ছতা রয়েছে সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন সংসদের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন অনুপ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ কমিটির লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনও কিছুই করা যায় না।