গোয়া চলচ্চিত্র উৎসবে হলদিবাড়ির সত্রাবিতের ছবি

167

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: চলতি মাসেই শুরু হতে চলেছে গোয়ায় ৫২তম ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ইফি)। চলচ্চিত্র উৎসবের ইন্ডিয়ান প্যানোরমা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মোট পাঁচটি বাংলা ছবি। তাতে স্থান পেয়েছে কোচবিহার জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রান্তিক শহর হলদিবাড়ির তরুন তুর্কি সত্রাবিত পালের জীবনীচিত্র ‘নিতান্তই সহজ সরল’। ‘ইফি’তে প্রদর্শিত হবে ঘরের ছেলের হাতে তৈরি প্রথম প্রচেষ্টার ফসল পূর্ন দৈঘ্যের চলচ্চিত্র। এমন খবরে উচ্ছ্বসিত হলদিবাড়ির সংস্কৃতি প্রেমী মানুষজন।

কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক ও গোয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে এই চলচ্চিত্র উৎসব। যা চলবে টানা ৯ দিন। এই ঐতিহ্যশালী চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন ভাষার ছবি জায়গা করে নেয়। এবছর উফি ২০২১-র ইন্ডিয়ান প্যানোরমা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মোট পাঁচটি বাংলা ছবি।

- Advertisement -

‘ইফি’তে প্রদর্শিত হবে প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অভিযান’। শর্মিষ্ঠা মাইতি ও রাজদীপ পালের সাড়া জাগানো ছবি ‘কালকক্ষ’। পরিচালক অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ‘মানিকবাবুর মেঘ’। ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় ছবি ‘ডিকশনারি’। এছাড়াও ওই একই বিভাগে দেখানো হবে এক অতি সাধারণ সহজ সরল আইসক্রিম বিক্রেতাকে নিয়ে সত্রাবিত পালের ছবি ‘নিতান্তই সহজ সরল’। তবে বিশেষ কারণে শেষপর্যন্ত ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় ছবি ‘ডিকশনারি’ উৎসবে প্রদর্শিত নাও হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের মধ্যে একমাত্র সত্রাবিত পালের ছবিই চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান পেয়েছে। সত্রাবিত পাল জানান, হলদিবাড়ি ব্লক এবং সংলগ্ন অঞ্চলের অতি সাধারণ মানুষদের সহজ সরল জীবনযাত্রার কথাই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। ‘নিতান্তই সহজ সরল’ চলচ্চিত্রটি সাদাকালো। ছবি শুটিং করা হয়েছে হলদিবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের মাঠেঘাটে। এতে দেখা যাবে হেমকুমারী, সাতকুড়া, তিস্তানদী, বালাডাঙ্গা, পারমেখলিগঞ্জ সহ সংলগ্ন এলাকার টুকরো ছবি।

১ ঘণ্টা ২২ মিনিটের এই ছবিতে ডিরেক্ট সাউন্ডে শুটিং করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের প্রযোজনা করেছে নিমাই শাসমল। কাহিনী লিখেছেন সত্রাবিত পাল ও কমলেশ রায়। কমলেশও হলদিবাড়ির ছেলে। সে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। মুখ্য অভিনেতা হিসেবে বরফ বিক্রেতার ভূমিকায় অভিনয় করে অমিত সাহা। তাঁর অভিনীত অন্য ছবি ‘কালকক্ষ’ ও এই উৎসবে স্থান পেয়েছে।

সত্রাবিত পাল আরও জানান, গল্প লেখা হয় ২০১৫ সালে। তারপরেই এর চলচ্চিত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়। সেই অনুযায়ী অভিনেতার জন্য হলদিবাড়ি প্রগতি যুব নাট্য সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গায়ক-গায়িকা, অভিনেতা সহ মোট ৩২ জনের সহযোগিতায় এটি তৈরি করা হয়। মূল অভিনেতা বাদ দিয়ে বাকিরা প্রত্যেকেই হলদিবাড়ি প্রগতি যুব নাট্য সংস্থার সদস্য। এরপর করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে ২০২০ সালে গড়ার দিকে ছবির মহরত হয়। তিনদিন শুটিং চলার পর লকডাউনের জেরে শুটিং বন্ধ রাখতে হয়। ২০২১ সালে আরো পাঁচ দিন ধরে চলে শুটিং। মোট আট দিন চলচ্চিত্রটির শুটিং করা হয়।

পরিচালক সত্রাবিত পাল বলেন, ‘বাবা সুবোধ পাল হলদিবাড়ি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক ছিলেন। তিনি হলদিবাড়ির মানুষকে নাট্যপ্রেমী করে তোলেন। নাটকের পাঠ দেন। গড়ে তোলেন একাধিক নাট্য সংস্থা। বাবার কাছ থেকেই অভিনয় চর্চার হাতে খড়ি। বাবা বেঁচে থাকলে এই খবরে খুব খুশি হতেন।‘