১ অক্টোবর থেকে রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা শুরু

6028

অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফাইনাল ইয়ার/সিমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হল। সোমবার রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়, ১ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের কলেজেগুলিতে ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অক্টোবরেই ফল প্রকাশিত হবে।

প্রসঙ্গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পরীক্ষার ভিত্তিতেই হবে মূল্যায়ন, বিনা পরীক্ষায় ডিগ্রি সম্ভব না। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কলেজগুলিকে তাদের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে বলে জানিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট একথাও বলে, করোনা আবহে রাজ্য যদি চায় তবে পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বরের পরে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য ইউজিসিকে অনুরোধ করতে পারেন।

- Advertisement -

আদালত এও জোর দিয়ে বলেছে যে, ‘রাজ্য কিছুতেই ছাত্রছাত্রীদের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা ছাড়া পরবর্তী বছরে উত্তীর্ণ করতে পারে না। মূল কথা হল সব পরীক্ষার্থীকেই চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা দিতে হবে। রাজ্যগুলো কিছুদিন তা স্থগিত রাখতে চাইলে তা রাখতে পারে। কিন্তু তবে তা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করতে পারে না।’

সুপ্রিম কোর্টের এই ঘোষণা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইউজিসি প্রথমে পরীক্ষা নেওয়ার দরকার নেই বললেও পরে সিদ্ধান্ত বদল করে। জুলাই মাসে ফের রাজ্যকে চিঠি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়। কেন্দ্রকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার ব্যাপারে গায়ের জোরে সিদ্ধান্ত চাপানো হচ্ছে। পড়ুয়াদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও মানসিক দুশ্চিন্তায় আছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা সংকটের মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন করে পড়ুয়াদের বিপদে ফেলার উদ্দেশ্য রাজ্যের নেই। তবে অনলাইন বা অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়া যায় তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেপ্টেম্বরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে পুজোর আগে পরীক্ষা নেওয়া যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পরীক্ষার নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন মমতা। সেইমত আজকের বৈঠক ডাকেন শিক্ষামন্ত্রী। উপাচার্যদের সঙ্গে হওয়া সেই বৈঠকেই রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফাইনাল ইয়ার/সিমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

উল্লেখ্য, করোনা আবহে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে বেশ কয়েকটি পিটিশন জমা পড়েছিল। পিটিশনারদের যুক্তি ছিল, দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ যখন দিন দিন বাড়ছে, এই অবস্থায় পরীক্ষার আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়। তা ছাড়াও এই অবস্থায় সব রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকায় পরীক্ষা আয়োজনে সমস্যার মুখে পড়তে হবে বলেও জানানো হয়েছিল পিটিশনে।

তাই পরীক্ষা বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতে। পাশাপাশি, কলেজে ছাত্রছাত্রীরা পূর্বতন সেমেস্টার সম্পূর্ণ করেছে। কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ অর্থাৎ সিজিপিএ পেয়েছে। তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশ করা যেতে পারে। কারণ সেই নম্বরগুলি হল তাঁদের প্রাপ্তি। যা অস্বীকার করার কোনও অবকাশ নেই।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছিল। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইউজিসি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যুক্তি পরীক্ষা ছাড়া এভাবে ছাত্রছাত্রীদের ডিগ্রি দেওয়া যায় না।

তবে এদিন ছাত্রছাত্রীদের পিটিশনের শেষরক্ষা আর হল না। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এদিন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনোর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এই পরীক্ষাগুলি নেওয়া আবশ্যিক এবং পরীক্ষা ছাড়া কোনও ডিগ্রি দেওয়া যায় না। রাজ্যগুলি যদি মনে করে যে তারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন করতে পারবে না, তবে তারা ইউজিসির কাছে আরও কিছু সময় দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে।’ বিচারপতি অশোক ভূষণ, আর সুভাষ রেড্ডি এবং এম.আর শাহ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুক্রবার এই রায় দেন।