হরিশ্চন্দ্রপুরের মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

105

হরিশ্চন্দ্রপুর: কলকাতায় ম্যানহোলে কাজ করতে গিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুরের মৃত ৪ শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের বিডিও পার্থ দাসকে নিয়ে পূর্ব তালসুরে যান চাঁচলের মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম নুর। মৌসমের সঙ্গে এলাকায় গিয়েছিলেন জেলা পরিষদের শিশু, নারী ও ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ মার্জিনা খাতুন, তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর মানব বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ও ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস সহ একাধিক নেতা। বৃহস্পতিবার রাতে এলাকায় গিয়ে পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানান হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মোস্তাক আলম, প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা তজমুল হোসেনও।

রাজ্য সভার সাংসদ এবং মালদা জেলার তৃণমূল নেত্রী মৌসম নুর জানান, ঘটনা খুব দুঃখজনক। তালসুরের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারগুলোর জন্য রাজ্যের ঘোষণা করা ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান সহ সব রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি চাকরির বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে। মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল জানান, ব্লকের চারজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রসাশন সকলের পরিবারের পাশে রয়েছে। এদিকে শ্রমিক মৃত্যুর জেরে এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাদানুবাদ। শ্রমিক মৃত্যু ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বিজেপি নেতা অজয় গঙ্গোপাধ্যায় কটাক্ষের সুরে জানান, আজ তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী সেখানে গিয়ে বলেছেন তারা বিষয়টি দেখছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, এলাকায় কাজ নেই, শ্রমিকদের কাজের খোঁজে বাইরে যেতে হচ্ছে কেন? গৌরীপুরের বাসিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোজ কুমার মণ্ডলের বক্তব্য, নেতা, জনপ্রতিনিধিরা এসে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এলাকাবাসীর তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াক। গ্রামে কোনও কাজ নেই। বাইরে গিয়ে সবাই বিপদে পড়ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, গতকাল কলকাতায় ম্যানহোলে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হয় হরিশ্চন্দ্রপুরের ৪ শ্রমিকের। মৃতরা হরিশ্চন্দ্রপুরের মালিয়ার ২ অঞ্চলের পূর্ব তালসুর গ্রামের বাসিন্দা। মৃত চারজনের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তিন শ্রমিকের মধ্যে আলমগীর হোসেন(২৮), জাহাঙ্গির আলম(২৬), সাবির আলি(২৪) তিন ভাই। অন্যজন লিয়াকত আলি(২২) তাঁদের প্রতিবেশী। মৃত শ্রমিকদের দেহ আনতে ইতিমধ্যে কলকাতায় গিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক তজমুল হোসেন ও তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান।