যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে আর্থিক ক্ষতি পালসিট টোল প্লাজায়

246

বর্ধমান: টোল আদায়ের সিস্টেমে বিভ্রাট ও নাকা চেকিংয়ের জেরে তৈরি হওয়া যানজটের কারণে টোল না নিয়েই ছেড়ে দিতে হয় গাড়ি। আর তার কারণে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে পূর্ব বর্ধমানের পালসিট টোল প্লাজার লোকসান হল চার লক্ষ টাকা। যা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত পালসিট টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসন ও পালসিট টোলপ্লাজার কর্মীদের তরফে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ হাওড়ায় শালিমারে প্রকাশ্যে শুট আউটের ঘটনা ঘটে। তাতে মৃত্যু হয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক সক্রিয় কর্মীর। এই খুনের ঘটনার পর রাত থেকে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের নানা পয়েন্টে শুরু হয় নাকা চেকিং। তার আগে ওইদিন দুপুরের দিকথেকে হঠাৎই পালসিট টোল প্লাজার টোল আদায়ের সিস্টেমে বিভ্রাট শুরু হয়েছিল। কর্মীরা অনেক চেষ্টা করেও সেই যান্ত্রিক বিভ্রাট শুধরে পুনরায় টোল আদায় চালু করতে পারেননি। সেই কারণে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায় করতে হয়। এইসব করতে গিয়ে পালসিট টোলপ্লাজা থেকে কলকাতার দিকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আর বর্ধমানের দিকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে যায় প্রচুর যানবাহন। তারজন্য জাতীয় সড়কে তৈরি ব্যাপক যানজট। একটা সময়ে যানজট পালসিট থেকে বহুদূরে আঝাপুর এলাকায় গিয়ে ঠেকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে নেমে মেমারি থানার পুলিশকেও হিমসিম খেতে হয়। বাধ্য হয়ে পালসিট টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ প্রায় আধঘন্টা টোল না নিয়েই সব যানবাহন ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

- Advertisement -

তবে নাকা চেকিংয়ে সাফ্যল্য পেয়েছে মেমারি থানার পুলিশ। এসডিপিও আমিরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ‘নাকা চেকিংয়ে হাওড়ার শালিমারের শুট আউটের ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করা গিয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন এফআইআর অ্যাকিউজড রয়েছে। ধৃতদের হাওড়া নিয়ে গেছে বোটানিক্যাল গার্ডেন থানার তদন্তকারী পুলিশ দল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান হাওড়ার শালিমারে তৃণমূলকর্মী ধর্মেন্দ্র সিংকে খুনের ঘটনা ঘটিয়ে ধৃতরা জাতীয় সড়ক ধরে বিহার পালাচ্ছিল।’

পালসিট টোলপ্লাজার আধিকারিক তমালচন্দ্র চৌধুরী জানান, পালসিট হয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। পালসিট টোল প্লাজায় চারশোর মত কর্মী রয়েছেন। মঙ্গলবার বেশ কিছুক্ষণ টোল আদায় না করতে পারার কারণে তাদের ৪ লক্ষ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে সিস্টেম চালু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আর কয়েকদিনের মধ্যে নতুন বছরে টোলপ্লাজায় ফাস্ট ট্যাগ পদ্ধতি পুরোপুরি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার আগে সিস্টেম বিভ্রাটে নিয়ে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ যে চিন্তিত তা তাদের কথাতেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছে।