সংসারে অনটন, হতাশায় আত্মঘাতী বধূ

0
211
- Advertisement -

বর্ধমান: অনটনের সংসারে আরও অনটন বাড়ে লকডাউনে। কারণে ওই সময়ে দীর্ঘদিন টোটোচালক স্বামীর রুজি রোজগার বন্ধ হয়ে থাকে। তার ওপর ছিল ঋণ পরিষোধের চাপ। লকডাউন উঠলেও অনটন থেকে মুক্তি মেলেনি। কারণ ওই সময় তীব্র মানসিক হতাশার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধূ। মৃতার নাম মহারানী বিবি (২৯)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঘোলদা গ্রামে।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে বাড়িতেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ভাতার থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতার স্বামী নুর আলম চৌধুরী পেশায় টোটো চালক। দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁড় ছোট্ট সংসার। নুর আলম জানান, টোটো কেনার সময় তিনি একটি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতি সপ্তাহে তাঁকে ঋণের কিস্তির টাকা পরিষোধ করতে হত। কিন্তু লকডাউনে সবকিছুর উলোট পালট ঘটে যায়। কারণ লকডাউনে টোটো চালান বন্ধ রাখতে হওয়ায় তাঁর রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। লকডাউন উঠলেও ঋণ শোধের টাকা জোগাড় করাই দায় হয়ে উঠেছিল। এদিন ছিল তাঁর সাপ্তাহিক লোনের কিস্তি দেওয়ার দিন।

মৃতার ভাই জাহির শেখ জানান, লোনের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পারায় আমার দিদি মানসিক দুঃচিন্তায় ছিলেন। আবারও লোন নেওয়ার কথা হচ্ছিল। কিন্তু মানসিক অবসাদের জেরেই শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হন।

পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বর্ধমান হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনার জেরে শোকস্তব্ধ পরিবার পরিজন থেকে প্রতিবেশীরাও।

- Advertisement -