বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের বিরুদ্ধে এফআইআর

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : শুধু সচেতনতা প্রচার বা  মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া নয়, বাল্যবিবাহ রুখতে এবার আইনকে হাতিয়ার করেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। নাবালিকাদের বিয়ে দিতে ইচ্ছুক অভিভাবকদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি থানায় এফআইআর করতে শুরু করল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বালুরঘাটের এক নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় তার বাবা-মা ও জামাইবাবুর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করে ব্লক প্রশাসন। প্রশাসনের মতে, নাবালিকাদের স্বার্থে সরকার কন্যাশ্রী, রূপশ্রী সহ নানা প্রকল্প চালু করেছে। বাল্যবিবাহ রুখতে প্রতিনিয়ত সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও নাবালিকাদের বিয়ে আটকানো যাচ্ছে না। চুপিসারে বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাই এবার শুধু সচেতন করে বা মুচলেকা দিয়ে এই বেআইনি বিয়ের আয়োজকদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে নির্দিষ্ট ধারায় মামলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বালুরঘাট ব্লক প্রশাসনের কড়া অবস্থান আগামীতে বাল্যবিবাহ রুখতে এই জেলায় প্রশাসনের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তিনদিক বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেরা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বাল্যবিবাহ সমস্যা চরমে। বিভিন্ন সময় জেলা থেকে নাবালিকাদের ভিনরাজ্যে পাচারের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে বিয়ে দিয়ে নাবালিকাদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই জেলায় প্রশাসন ও অন্য সহযোগী সংস্থাগুলি বাল্যবিবাহ রোখার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যায়। নাটক, ফেস্টুন, বৈঠক ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে এনিয়ে সচেতন করা হয়। কিন্তু তাতেও মাঝেমধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া যায়। বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি গ্রাম থেকে এমনই এক বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছিল ব্লক প্রশাসন। খবর পেয়ে জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক, পুলিশ, চাইল্ড লাইন ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা ওই গ্রামে যান। সেখানে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীর বিয়ের আসরও বসে গিয়েছিল। প্রশাসনিক কর্তাদের গ্রামে পৌঁছানোর খবর পেতেই ওই পরিবার নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

- Advertisement -

পরিবারের লোকজনকে পাকড়াও করতে প্রশাসনকেও দীর্ঘক্ষণ ছোটাছুটি করতে হয়। কিন্তু প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যায় ওই পরিবারটি। এরপরই বালুরঘাট থানায় ওই নাবালিকার বাবা-মা এবং জামাইবাবুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করার জন্য এফআইআর দায়ের করা হয়। জেলা সুরক্ষা আধিকারিক (প্রাতিষ্ঠানিক) সুবোধ দাস বলেন, গত সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসনের তরফে এক বৈঠকে বাল্যবিবাহ রোধে সরাসরি মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বালুরঘাট ব্লকের তরফে প্রথম এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। বালুরঘাটের বিডিও অনুজ শিকদার বলেন, বাল্যবিবাহ দেওয়ার পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় তার জন্য গ্রামে গ্রামে নজর রাখা হচ্ছে। সরকারের তরফেও ছাত্রীদের সহায়তায় নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তারপরেও যে সমস্ত নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই বিয়ে আটকে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। বাল্যবিবাহকে আমরা কোনওমতেই প্রশ্রয় দেব না।