দমকলকেন্দ্রের জমি এখন ডাম্পিং গ্রাউন্ড

266

বীরপাড়া : আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ায় একটি দমকলকেন্দ্র তৈরির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ছ’মাস পরেও কাজ শুরু হয়নি। এদিকে, মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমাধ্যেই আগুন ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বীরপাড়ায় দমকলকেন্দ্র তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী ।

মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে কোনো দমকলকেন্দ্র নেই। ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু গ্রাম ছাড়াও ২০টির বেশি চা বাগান রয়েছে।  অথচ এলাকায়  আগুন লাগলে মানুষকে  ফালাকাটা, হ্যামিল্টনগঞ্জ বা ধূপগুড়ি দমকলকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব জায়গা থেকে মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে দমকলের ইঞ্জিন পৌছুঁতে কমবেশি একঘণ্টা সময় লেগে যায়। তখন, আর বিশেষ কিছু করার থাকে না।

- Advertisement -

মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে দমকলকেন্দ্র তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বাম জমানাতেই। ২০০৮ সালের শেষদিকে আরএসপি পরিচালিত মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন সভাপতি বিকাশ দাস  ও মাদারিহাটের বিডিও নাভেদ আখতার বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হলে সহযোগিতা করেন তৎকালীন অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলার দুই জেলাশাসক বন্দনা যাদব ও স্মারকি মহাপাত্র। মাদারিহাটের তৎকালীন বিধায়ক কুমারি কুজুর বিষয়টি নিয়ে ডানকান টি কোম্পানির দ্বারস্থ হন। বীরপাড়া চৌপথির কাছে বীরপাড়া ফালাকাটা রোডের পাশে দমকলকেন্দ্র তৈরির জন্য ৬৯ ডেসিমল জমি দেয় বীরপাড়া চা বাগান।

এরপর পালাবদল হয় রাজ্যে । ২০১৫ সালের শেষের দিকে আলিপুরদুয়ার থেকে রিমোট কন্ট্রোলের বোতাম টিপে বীরপাড়ায় দমকলকেন্দ্র তৈরির শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। চলতি বছরের ১ মার্চ দমকলকেন্দ্রের ভবন তৈরির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পূর্ত দপ্তর। তবে, টেন্ডার প্রক্রিয়া হওয়ার ছ’মাস পরও সেখানে ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়নি। মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, দমকলকেন্দ্রের ভবন সহ অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির জন্য আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে দমকল বিভাগ।

ওই ব্লকের বাসিন্দা সুজিত দত্ত  বলেন, ‘বীরপাড়ায় দমকলকেন্দ্র তৈরির কাজ দ্রুত শুরু হওয়া দরকার। কারণ, প্রতি বছরই মাদারিহাটের কোনো না কোনো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি হয়েই চলেছে।’ গত ২৭ অক্টোবর রাতে রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে একটি অবৈধ গুদামে আগুন লাগে। ফালাকাটা থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ৩৫ কিমি পথ পেরিয়ে  ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ঘণ্টাখানেক পর। দমকলকর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর ২৯ অক্টোবর  রাতে মাদারিহাটের একটি দোকানে আগুন লাগায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বীরপাড়ার পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান ও বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপরই, দমকলকেন্দ্রের ভবন তৈরির জন্য টেন্ডার ডাকা হয়।

বীরপাড়া ফালাকাটা রোডের পাশে দমকলকেন্দ্রের ভবন তৈরির জন্য বরাদ্দ জমিটি অবশ্য এখন এলাকাবাসীর আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জমির একাংশ ঢেকে গিয়েছে ঝোপঝাড়ে। জমি চিহ্নিতকারী সাইনবোর্ড ভেঙেচুরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। বীরপাড়ার বাসিন্দা তথা মাদারিহাটের ব্লক তৃণমূল নেতা মান্নালাল জৈন বলেন, ‘দমকলকেন্দ্র তৈরির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যাতে ভবন তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করা হয় সেই চেষ্টা করা হবে।’ মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

ছবি – বীরপাড়ায় দমকলকেন্দ্রের জন্য চিহ্নিত জমি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে ।

তথ্য ও ছবি – মোস্তাক মোরশেদ হোসেন