করাচি, ৩১ অক্টোবরঃ করাচি থেকে রাওয়ালপিণ্ডি যাওয়ার পথে আগুন লেগে গেল তেজগাম এক্সপ্রেসে। ভয়াবহ আগুনে এখনও পর্যন্ত ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় মারা গিয়েছেন। হতাহেতর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার ভোরে পাক পঞ্জাব প্রদেশের লিয়াকতপুরের রহিম ইয়ার খানের কাছে ট্রেনটিতে আগুন লাগে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন পাক রেলওয়ের আধিকারিকরা।

পাক রেলওয়ের সূত্রে খবর, তেজগাম এক্সপ্রেসের একটি বগি এক ধর্মীয় সংগঠনের তরফে বুকিং করা হয়েছিল। সকালে বগির মধ্যেই গ্যাস জ্বালিয়ে প্রাতরাশ রান্না করা হচ্ছিল। সেই সময় গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। ট্রেনে উপস্থিত বেশ কয়েকজন যাত্রীও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। পাশে থাকা আরও দুটি সিলিন্ডারেও আগুন ধরে যায়। চলন্ত ট্রেনে সহজেই পাশের দুটি কামরাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দেখে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে। অনেকেই লাফ মেরে বাঁচার চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রেন না থামায় তাঁরা পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান। পাক প্রশাসন সূত্রে খবর, পাকিস্তানে দূরপাল্লার ট্রেনে রান্না করার প্রচলন দীর্ঘদিনের। অনেকবার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও লাভ হয়নি। যে বগিতে প্রথম আগুন লাগে সেটি ওই ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধির নামে বুকিং করায় যাত্রীদের পরিচয় জানতেও অসুবিধা হচ্ছে।

খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশেষ উদ্ধারকারী দল। অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে লিয়াকতপুরের ডিএইচকিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের উদ্ধার করতে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও মুলতান থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাকিস্তানের রেলওয়েমন্ত্রী শেখ রশিদ এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।