মুখ্যমন্ত্রীর ফ্লেক্স সহ দলীয় পতাকায় আগুন, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে

128

বর্ধমান: রাতের অন্ধকারে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া ফ্লেক্স ও তৃণমূলের দলীয় পতাকা পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে । এই ঘটনা নিয়ে শুক্রবার  সকাল থেকে  ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার সেলিমাবাদ গ্রামে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকার এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী এদিনই জামালপুর থানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি পতাকা ও ফ্লেক্স পোড়ানোর ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল।

জামালপুর ব্লকের তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান জানিয়েছেন, ‘দোরগোড়ায় বিধানসভা ভোট । তাই শাসক বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই তাদের দলের পতাকা, ফেস্টুন লাগানো শুরু করে দিয়েছে। জামালপুরের সেলিমাবাদ গ্রামের তৃণমূল কর্মীরাও তা থেকে পিছিয়ে থাকেনি । তারা সেলিমাবাদের বালিখাদ মোড়ে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ফ্লেক্স ও পতাকা লাগিয়েছিল । বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা পর্যন্ত ওইসব ফ্লেক্স ও পতাকা সেখানে অক্ষত অবস্থাতেই দেখেছিল এলাকার বাসিন্দারা। অথচ এদিন সকালে এলাকার মানুষজন দেখতে পান তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রায় ২০ টি পতাকা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ফ্লেক্স পোড়া অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে । মেহেমুদ খান দাবি করেন, এইসব বিরোধীদের কাজ। তারাই রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের পতাকা ও ফ্লেক্স পোড়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, জামালপুর ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ভূতনাথ মালিক অভিযোগ করেছেন, ’ভোটের আগে এলাকা অশান্ত করতে বিজেপি আশ্রিত দুস্কৃতিরা তৃণমূলের পতাকা, ফেস্টুন পোড়ানো শুরু করেছে। তৃণমূলের কর্মীরা রাজ্যনৈতিক ভাবেই বিজেপির এইসব ঘৃণ্য কাজ কারবারের মোকাবিলায় নামবে বলে ভূতনাথ মালিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।’

তৃণমূল নেতৃত্বের আনা এইসব অভিযোগ যদিও মানতে চাননি জামালপুরের বিজেপি নেতৃত্ব। জামালপুর বিধানসভার বিজেপি কনভেনার  জিতেন ডকাল জানিয়েছে, ‘জামালপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের একগোষ্ঠীর নেতা কর্মীদের চক্ষুশূল অপর গোষ্ঠীর নেতা ও কর্মীরা। এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর লাগানো দলের পতাকা ফ্লেক্স পুড়িয়ে দিয়েই হয়ত বিজেপির দিকে আঙুল তুলছে। ভোটে মুখে মিথ্যা মামলায় বিজেপি কর্মীদের ফাঁসাতে  তৃণমূল নেতারা এখন এই স্ট্র্রাটেজি নিয়েছে বলে জিতেন ডকাল দাবি করেছেন।’