নির্বাচনের মুখে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

103

হরিশ্চন্দ্রপুর: নির্বাচনের মুখে হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে গুলি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে বিহার সীমান্তবর্তী গোবরাহাট এলাকা থেকে এই অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বিহার থেকে এপারে অস্ত্র নিয়ে আসার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে উন্নত মানের দুটি রাইফেল, দুটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ডগুলি। এই অস্ত্র বিহার থেকে এপারে বিক্রি করতে নাকি মজুত করতে তা নিয়ে আসা হচ্ছিল পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। পুলিশ জানায়, ধৃতদের নাম সাদ্দাম হোসেন ও মাজিরুল হক। দুজনেই মানিকচক ব্লকের ধরমপুর জিসারুলটোলার বাসিন্দা।  শনিবার ধৃত দুজনকেই চাঁচল মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তাদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, ‘হরিশ্চন্দ্রপুরে বিহার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশ নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালাচ্ছে। ধৃতরা কোথা থেকে কেন অস্ত্র নিয়ে আসছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর ভোটের মুখে ওই অস্ত্র উদ্ধারকে ঘিরে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। নির্বাচনের মুখে এই অস্ত্র মজুত করতেই নিয়ে আসা হচ্ছে বলে একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।‘

- Advertisement -

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই কালিয়াচকে অস্ত্র কারখানার হদিশ মিলেছিল। সেখানে বিহারের মুঙ্গের থেকে দুষ্কৃতীদের এনে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এবার হরিশ্চন্দ্রপুরে একই সঙ্গে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশও। গোবরাহাট এলাকায় ফুলহার নদীর ওপারেই বিহার। রাতে গোপনে সেই পথেই অস্ত্রগুলি মালদায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু গোপনে খবর পেয়ে হানা দিয়ে অস্ত্র সমেত দুষ্কৃতীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। হরিশ্চন্দ্রপুরে এর আগে একসঙ্গে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি। ফলে এই ঘটনাকে বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করছে পুলিশ।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে একে অন্যকে বিঁধতে ছাড়ছেন না শাসকদল ও বিরোধীরা।এদিন বিজেপির জেলা সম্পাদক কিষান কেডিয়া বলেন, ‘সন্ত্রাস করেই তৃণমূল পঞ্চায়েত ভোটে জিতেছিল। এবার একই কায়দায় বিধানসভা ভোট করবে ভেবে ওরা অস্ত্র মজুত করছে। যাতে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট লুঠ করা যায়। কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকায় আমরা খুশি।’অন্যদিকে, জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান বলেন, ‘লাগোয়া বিহারে বিজেপিরই সরকার রয়েছে। ফলে বিজেপিই সেখান থেকে এই জেলায় অস্ত্র নিয়ে আসছে। প্রশাসনও সেটা জানে। তাই প্রশাসনও সক্রিয় রয়েছে।‘