প্রধানমন্ত্রী একজন মিথ্যেবাদী, কটাক্ষ ফিরহাদের

116

চাঁচল: চৈত্রের রোদের মতোই বঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। তোপ-পালটা তোপে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। শনিবার থেকে বাংলায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ৩০টি আসনে ভোট হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বাকি আসনগুলিতে পর্যায়ক্রমে ভোট হবে। বাংলার মসনদ কার দখলে আসবে, তা বলবে সময়। ভোটের প্রাক্ মুহূর্তে প্রচারে ঝড় তুলেছে সমস্ত রাজনৈতিক দল।

শনিবার দুপুরে চাঁচলে তৃণমূলের একটি নির্বাচনি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ এদিন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। ওরা হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।‘ সেইসঙ্গে ফিরহাদ এদিন বাম-কংগ্রেস জোটকেও আক্রমণ করেন ও ল্যাংড়া বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, বাম-কংগ্রেস জোট এরাজ্যে পেছন থেকে বিজেপির সুবিধে করছে।

- Advertisement -

রাজ্যের বিদায়ী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বিজেপি নেতারা বাংলাকে সোনার বাংলা বানাতে চাইছেন। ওঁনারা সোনার ভারত গড়তে পারলেন না, সোনার বাংলা করবেন কীভাবে। বিজেপি নেতারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই দেন না। আগে সোনার ভারত হোক তারপর না হয় বাংলার কথা ভাববে বিজেপি। ফিরহাদের কটাক্ষ, উত্তরপ্রদেশ, অসম, ত্রিপুরা, গুজরাত তো বিজেপি শাসিত। সেগুলিকে কি বিজেপি সোনার রাজ্য বানাতে পেরেছে?‘

এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন মিথ্যেবাদী। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরত আনা ও সকলকে ১৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদি। কিন্তু এখনও কেউ কিছুই পাননি। বছরে দু কোটির চাকরিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, সেটাও পূরণ হয়নি। ২০১৯ সালেও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। ক্ষমতায় এসে রেল, বিমান, কয়লা, ব্যাংক সহ বহু সরকারি সংস্থা বিক্রি করে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিজয় মালিয়া, নীরব মোদিরা দেশের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে বিদেশে বসে আরামে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে কেন্দ্রের কোনও মাথাব্যথা নেই।‘ পাশাপাশি ফিরহাদ এদিন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীরও তীব্র সমালোচনা করেন।

ফিরহাদ চাঁচলের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘পুরসভা নিয়ে চিন্তা করবেন না। ভোটের পরেই চাঁচল পুরসভা চালু হবে।‘ তিনি এদিনের নির্বাচনি সভায় চাঁচলের তৃণমূল প্রার্থী নীহাররঞ্জন ঘোষকে ভোটে জেতানোর কথা বলেন। ফিরহাদ বলেন, ‘নীহারবাবু জিতলে তাঁর হাত দিয়েই চাঁচল পুরসভাকে ঢেলে সাজানো হবে।‘ পাশাপাশি তিনি হরিশ্চন্দ্রপুরের তজমুল হোসেন, রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায়, মালতিপুরের আব্দুর রহিম বক্সির হয়েও ভোট প্রার্থনা করেন। ফিরহাদ রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

এদিনের নির্বাচনি সভায় উত্তর মালদার শাসকদলের চার প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি মৌসম নূর, দলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মুসারফ হোসেন, জেলা কো-অর্ডিনেটর বাবলা সরকার, জেলা পরিষদ সদস্য এটিএম রফিকুল হোসেন প্রমুখ।

অন্যদিকে, পুরসভা ঘোষণা প্রসঙ্গে চাঁচলের বিদায়ী বিধায়ক তথা বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী আসিফ মেহবুব বলেন, ‘বার বার শুধু প্রতিশ্রুতি মিলেছে। কিন্তু পুরসভা আর হল না। সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই চাঁচলে পুরসভা হচ্ছে না। পুরসভা নিয়ে শাসকদল ভোটের রাজনীতি করছে।‘ চাঁচলের বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর রামের বক্তব্য, ঘোষণার দশ বছর পরও চাঁচল পুরসভা হল না। এজন্য শাসকদলকেই দায়ী করেছেন তিনি। ফের শাসকদল পুরসভার লোভ দেখিয়ে ভোট চাইছে। এই মানসিকতাকে ধিক্কার জানিয়েছেন তিনি।