লকডাউনের মাঝে অগ্নিগর্ভ রায়গঞ্জ, গোলাগুলিতে চরম উত্তেজনা এলাকাজুড়ে

274

রায়গঞ্জ, ৪ মেঃ ফের রায়গঞ্জ শহরে সমাজবিরোধী ২ গোষ্ঠীর লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রায়গঞ্জ শহরের শক্তিনগর এলাকা। রবিবার গভীর রাতে ২ গোষ্ঠীর মধ্যে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে রীতিমতো গুলির লড়াই চলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্তত ৫০ রাউন্ড গুলির শব্দ তাঁরা শুনতে পেয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী কার্যত সিঁটিয়ে রয়েছেন। সোমবার ঘটনাস্থলে যায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। যদিও পুলিশ দুষ্কৃতীদের এই কর্মকান্ডের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য পুলিশ আধিকারিকরা করতে চাননি। অন্যদিকে, বেআইনি অস্ত্র কোথা থেকে আসছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী গঙ্গা পাসোয়ান অন্য গোষ্ঠীর দুষ্কৃতী সমীর সরকারের জমি ও বাড়ি দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবাদ করতেই সমীরের মা এবং বৌদিকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার রাতে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এরপরই যাবতীয় গন্ডগোলের সূত্রপাত ঘটে। রায়গঞ্জ শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিনগর এলাকায় জমি বিবাদের জেরেই এই দুষ্কৃতীদের মধ্যে গোলমাল রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলির খোলস পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি, গঙ্গা পাসোয়ানের ২টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্যদিকে, গঙ্গা পাসোয়ানের অনুগামীরা সমীর সরকারের বাড়িও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ। ২ পক্ষের গুলিতে ওই এলাকাবাসীদের মনে রীতিমতো আতঙ্ক গ্রাস করেছে।

- Advertisement -

গঙ্গা পাসোয়ানের স্ত্রী সুমিতা পাসোয়ান জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার রাস্তা গতকাল সকালে আমিন দিয়ে মাপা হয়। সিমেন্টের খুঁটিও লাগানো হয়। এরপর সমীর সরকার, চন্দন চৌধুরী সহ একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। বাড়ির জানালার কাঁচ বন্দুকের গুলি লেগে ফেঁটে গিয়েছে। এরপর তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও ভাঙচুর করা হয়। শ্বশুরকে বেধড়ক মারধর করে সমীর সরকার ও তাঁর অনুগামীরা। অন্যদিকে সমীর সরকার জানান, গতকাল তাঁর বাড়ি ও প্রায় ১০ কাঠা জমি দখল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর মা ও বৌদি প্রতিবাদ করতে গেলে, তাঁদেরকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর এলাকার বাসিন্দারাই তাঁদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করেন। গঙ্গা পাসোয়ান নিজের বাড়ি নিজে ভেঙেই তাঁর নাম দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ২ পক্ষই রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ও জেলা পুলিশের কর্তারা তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত গঙ্গা পাসোয়ানের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে রায়গঞ্জের সাংবাদিককে খুন করা সহ একাধিক খুনের মামলা রয়েছে। এদিকে অন্য গোষ্ঠীর দুষ্কৃতী সমীর সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিক খুনের মামলা রয়েছে। স্থানীয় তৃণমূলের কাউন্সিলর বরুণ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, তাঁর ওয়ার্ডে গতকাল গভীর রাতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সমস্ত ঘটনা রায়গঞ্জ থানার আইসিকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রায়গঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তৃণমূলের একাধিক কর্মকান্ডে তাঁদের দেখা গিয়েছে। যদিও, এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা কখনোই রাজনৈতিক দলের হয়না। দুষ্কৃতীরা দুষ্কৃতীই হয়। এর আগেও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পঞ্চায়েত সমিতির ১ সদস্যকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের দলে দুষ্কৃতীদের কোনও জায়গা নেই। দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে শক্তিনগরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত থাকলেও, গোটা দিনে অভিযুক্তদের একজনও এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি বলে খবর।