করোনায় আক্রান্ত এক রেলকর্মীর মৃত্যু

321

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার সালানপুর ব্লকে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। মৃত রেলকর্মী চিত্তরঞ্জন শহরের বাসিন্দা। পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ জুন শনিবার রাত ৯.১৫ মিনিটে দুর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতালে মৃত্যু হয় চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার স্টোর বিভাগের কর্মরত ওইআধিকারিকের। মৃত রেলকর্মীর বয়স ৫৩ বছর। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাসপাতাল থেকে যে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে তাতে লেখা হয়েছে, টাইপ-১ রেস্পিরেটরি ফেলিওর, ব্রঙ্কোজেনিক কার্সিনোমা ও কোভিড নিউমোনিয়া। জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অভিজিৎ টুকারাম জানান, ওই রেলকর্মী ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। পরে তার লালা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তারপর তাকে দূর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাতে তিনি মারা যান।

শনিবার মধ্যরাত প্রায় দুটো নাগাদ রেল কর্মীর দেহ স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মতো পুলিশ চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেই হাসপাতালে নিয়মমতো রেলের চিকিৎসকরা আরো এক দফায় পরীক্ষা করেন। এরপর আরপিএফ ও চিত্তরঞ্জন পুলিশ রেল শহরের অদূরে অজয় নদের শ্মশানে দেহ নিয়ে যায়। বাড়ির লোকেদের আসায় বিধিনিষেধ থাকায় আসানসোল জেলা হাসপাতাল থেকে দুজন ডোমকে শেষকৃত্যের জন্য রাতেই আনা হয়। মৃত রেল কর্মীর ছেলেকে দূরত্ব বজায় রেখে মুখাগ্নি করার সুযোগ দেওয়া হয়।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, ওই রেলকর্মীকে গত ১৫ জুন চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতাল থেকে দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। জানা গেছে, মাস কয়েক আগে ওই রেলকর্মীকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা করানোর জন্য। তিনি ক্যান্সারেও আক্রান্ত ছিলেন। লকডাউনের মধ্যে চেন্নাই থেকে ফিরে আসার পরে তাকে চিত্তরঞ্জন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। সেখানে শরীর খারাপ হওয়ায় তাকে কোয়ারান্টিন সেন্টার থেকে কেজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেলকর্মীর লালর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত ধরা পড়ে। তারপরই তড়িঘড়ি দুর্গাপুরে কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রবিবার চিত্তরঞ্জনের স্টাফ কাউন্সিলের সদস্য নেপাল চক্রবর্তী বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনার পর রেলের তরফে ওই রেলকর্মীর বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় স্যানিটাইজেশন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দূর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতাল সূত্রে রবিবার জানা গেছে, সেখানে ১৪ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৩ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে ও মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জন লেভেল ৩ আইসোলেশান ও ১ জন লেভেল ৪ আইসোলেশান ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। অন্যদিকে, শনিবার রাত পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১২০ জন। মারা গিয়েছেন ৩ জন। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ জন।