বৈশাখী পূর্ণিমায় মাঝেরডাবরিতে উঠল দুটি পাতা-একটি কুড়ি

102

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : বাগানে চা পাতা ওঁরা বহুদিন ধরেই তুলছেন। তবে তা দিনের বেলায়। ভরা পূর্ণিমার আলোয় এই প্রথম ওঁরা চা পাতা তুললেন। অভিনব এই অভিজ্ঞতা ওঁদের এই প্রথম। স্বাভাবিকভাবেই এমন কাজে ওঁরা রোমাঞ্চিত। ওঁরা আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানের বাছাই করা অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন চা শ্রমিক।

বাগান কর্তৃপক্ষ সোমবার ফুল মুন প্লাকিং বা জ্যোৎস্না আলোয় চা পাতা তোলার আয়োজন করেছিলেন। নদীর ধারে পূর্ণিমা রাতে এমন  মনোরম পরিবেশের সাক্ষী থাকতে আলিপুরদুয়ার শহরের উৎসাহী মানুষ উপস্থিত ছিল। পাশাপাশি বাইরে থেকেও বেশ কয়েকজন পর্যটক এদিন বাগানের ফুল মুন প্লাকিং-এ উপস্থিত ছিলেন। এদিনের রাত বাগান শ্রমিকদের কাছে একেবারে নতুন।

- Advertisement -

মাঝেরডাবরি চা বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, ডুয়ার্সের সমতলের চা বাগানগুলির মধ্যে আমরাই প্রথম ফুল মুন প্লাকিং আয়োজন করালাম। এদিন শ্রমিকরা যে চা পাতা তুলেছেন তা দুদিনের মধ্যেই বাজারজাত করা হবে। স্থানীয় জায়গা সহ বিদেশেও বিক্রির জন্য পাঠাব। চা পাতা তোলার নতুন অভিজ্ঞতায় শ্রমিকরা রোমাঞ্চিত ছিল। আশা করছি, প্রতি পূর্ণিমাতেই এমন আযোজন করতে পারব।

কী এই ফুল মুন প্লাকিং? চা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভরা পূর্ণিমায় চা গাছের মাটি থেকে জল শোষণের ক্ষমতা বাড়ে। ফলে সেই জলের সঙ্গে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পাশাপাশি চায়ের সুগন্ধি বৃদ্ধি করে এমন উপাদান অনেক বেশি পরিমাণে পাতায় পৌঁছায়। ফলে এই পদ্ধতিতে চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধি আলাদা হয়। ভরা পূর্ণিমার আগে বা পরে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেই পূর্ণিমার রাতে চা গাছ সুগন্ধি বৃদ্ধিকারী উপাদানগুলি বেশি করে সংগ্রহ করতে পারে। তাই রাতের দিকে চা গাছ থেকে পাতা তোলার উৎকৃষ্ট সময় বলেই ধরা হয়। ফুল মুন প্লাকিং বা ভরা পূর্ণিমার সময় যে পাতা তোলা হয় তা দিয়ে মূলত উন্নত মানের সাদা চা বা ব্ল্যাক টি-ও উৎপাদন করা যায়।

এই ধরনের চা উৎপাদনে আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগান সক্ষম। তাই এখানে সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফুল মুন প্লাকিং করা হয়। এদিন চা বাগানের ১০ হেক্টর এলাকায় ফুল মুন প্লাকিং করা হয়। এই কাজে বাগানের বাছাই করা ১০০ জন দক্ষ শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়েছিল। ১০০ হেক্টর এলাকা থেকে যে পরিমাণ চা পাতা তোলা হয়েছে তাতে প্রায় এক হাজার কেজি সিটিসি চা পাতা বানানো সম্ভব বলে বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জীবনে প্রথম রাতের আলোয় চা পাতা তোলায় যারপরনাই খুশি শ্রমিকরা। এদিন পাতা তোলার ফাঁকেই গীতা ওরাওঁ, লক্ষ্মী মুন্ডা, সুজাতা ওরাওঁ তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। লক্ষ্মী ওরাওঁ বলেন, এতদিন দিনের আলোয় চা পাতা তুলেছি। কিন্তু এদিন জীবনে প্রথম জ্যোৎস্নার আলোয় পাতা তুললাম। এই স্মৃতি আজীবন মনে থাকবে। বাগানের বাসিন্দা প্রদীপ মুন্ডা বলেন, দিনকয়েক ধরেই পূর্ণিমার রাতে চা পাতা তোলার বিষয়ে বাগানে আলোচনা চলছিল। এর আগে এমন বিষয় কোনও দিন দেখিনি। আমাদের আশা, ফুল মুন প্লাকিং চা বাগানের অর্থনীতিকে মজবুত করবে। ডুয়ার্সের সমতলের চা বাগানগুলির মধ্যে মাঝেরডাবরিতেই প্রথম ফুল মুন প্লাকিং করা হল। এর আগে মকাইবাড়ি এবং গরুবাথানের চা বাগান এমন চা উৎপাদনের সাক্ষী থেকেছে। সেই নামের সঙ্গে এবারে মাঝেরডাবরিও জুড়ে গেল।