অ্যাথলেটিক্সে জেলায় সেরা মনোজ এখন রাজমিস্ত্রীর কাজ করছে

430

কৌশিক দাস, বড়দিঘি: অর্ধাহারে দিন কাটছে জলপাইগুড়ি জেলা বিদ্যালয় এথ্লেটিক্স মিটে অনুর্ধ্ব-১৪ শটপাটে প্রথম হওয়া মনোজ রায়ের (১৩)। মাল ব্লকের তেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মোরের বাসিন্দা মনোজ পরিবারের হাল ধরতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। পরিবারের এই প্রতিকূল অবস্থাতেও প্রস্তুতি চলছে জলপাইগুড়ি জেলার হয়ে রাজ্য মিটে গিয়ে সফল হবার। পুষ্টিকর খাবার না পেলে সেই সেই স্বপ্ন আদৌ পূরণ হবে কিনা জানা নেই মনোজের। মনোজদের চারজনের পরিবারে বাবা গৌরাঙ্গ রায় এবং মা সুমিতা রায় ছাড়াও ছোট এক ভাই আছে। ভীষণই লাজুক প্রকৃতির মনোজ মাল আদর্শ বিদ্যাভবন স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মনোজের বাবা গৌরাঙ্গ রায় আগে ভ্যান চালাত। কিন্তু সেই ভ্যান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মনোজ সংসারের হাল ধরতে রাজমিস্ত্রির কাজ বেছে নিয়েছে। সপ্তাহে মাত্র দুদিন সে স্কুলে যায় আর বাকি দিন রাজমিস্ত্রির কাজ করে। এত সমস্যা সত্বেও খেলাধুলা ও পড়াশোনার প্রতি অদম্য উৎসাহ তাঁর। কিন্তু লকডাউনের কারনে খুবই আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা।

দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগানোই যেখানে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ সেখানে পুষ্টিকর খাবারের আশা করা বিলাসিতা। কিন্তু নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার না পেলে রাজ্যমিটে সফল হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। মনোজের বাবা গৌরাঙ্গ রায় বলেন, ‘আমি দিনমজুরির কাজ করি। এখন সেসবও বন্ধ। ছেলেটা খেলাধূলাতে ভালো, জেলার খেলাতে প্রথম হয়েছে। পরিবারের হাল ধরতে অল্প বয়সেই ছেলেটা রাজমিস্ত্রির কাজ করে। ‘অসহায় গলায় তিনি জানান, লকডাউনের জেরে কাজকর্ম সব বন্ধ থাকায় দুবেলা ভাত জোগাতেই এখন হিমশিম অবস্থা, মনোজকে পুষ্টিকর খাবার দেবার মত সামর্থ্য তাঁর নেই।’ মনোজ শটপাটে রাজ্যে প্রথম হয়ে জেলার মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আর্থিক অসহায়তা তাঁর সাফল্যের রাস্তায় বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাজুক মনোজ বলে, “বাবার একার উপার্জনে সংসার ঠিকভাবে চলছে না। এজন্য বাবার পাশে এসে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি। এজন্য প্রতিদিন স্কুল যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়না। এতে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। যাতায়াত ভাড়ার জন্য প্রাকটিসেও অনেকসময় যেতে পারিনা কিন্তু কি আর করব?”

- Advertisement -

মনোজের প্রশিক্ষক তথা বড়দিঘি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জয় সোম বলেন,”মনোজ আমাদের মালবাজার স্পোর্টস এন্ড অ্যাথলেটিক্স কোচিং ক্যাম্পে আমার কাছেই অনুশীলন করে। মনোজ ভীষণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়, খুব পরিশ্রম করতে পারে । নিয়মিত পুষ্টি পেলে অনেক এগোবে। এইটুকু বয়সে সপ্তাহে তিন চার দিন রাজমিস্ত্রিদের সাথে হেল্পারের কাজে যায়, এর চেয়ে কষ্টদায়ক আর কী হতে পারে। তার মধ্যে এখন তো লকডাউনের মধ্যে ওদের ঘরে খাবারই জুটছে না। কেউ যদি নিয়মিত ওর পুষ্টির দায়িত্ব নেয়, আমি আশা করি মনোজ হতাশ করবে না, বরং আরও ভালো পারফরমেন্স দেবে।” মাল আদর্শ বিদ্যাভবনের প্রধান শিক্ষক উৎপল পাল বলেন, “লকডাউনের কারনে ওর সাথে যোগাযোগ করতে একটু সমস্যা হয়েছে । মনোজের পারিবারিক অবস্থা সত্যিই খুবই খারাপ । আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওর পাশে থাকার চেষ্টা করছি ।” জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) বালিকা গোলে বলেন, “আমরা মনোজের পাশে থাকব ।”