পুর প্রশাসক হিসেবে প্রথম বৈঠক সারলেন ফিরহাদ

179

কলকাতা: মেয়র পদের মেয়াদ শেষে শুক্রবার থেকে কলকাতা পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য সরকার নিযুক্ত পুরসভার প্রশাসক হিসাবে তিনি এদিন প্রথম প্রাক্তন মেয়র পারিষদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠক শুরু হওয়ার আগেভাগেই মেয়রের ঘরের নাম ফলকে যেমন পরিবর্তন করে নেওয়া হয়, ঠিক তেমনি মেয়র পারিষদদের ঘরের নামের ফলকের নিচে মেয়র পারিষদ লেখা জায়গাটি একটি সাদা কাগজ দিয়ে ঢেকে দিয়ে সেখানে টাইপ করে লিখে দেওয়া হয় সদস্য প্রশাসনিক বোর্ড।

এদিনের বৈঠকটিতে প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন বিভাগের ডিজিরা। বৈঠকটি মূলত ডাকা হয়েছিল কলকাতা পুর এলাকায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য। সেইসঙ্গে আসন্ন বর্ষাকালে কলকাতাকে যাতে জলমগ্ন হতে না হয় সে ব্যাপারটি নিয়েও আলোচনার উদ্দেশ্যে।
বৈঠক শেষে নবনিযুক্ত প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, করোনা মোকাবিলায় তিনি এদিনের বৈঠকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন। যে কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন তিনি। এছাড়া, ওই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ অফিসার সহ অন্যান্যরা।

- Advertisement -

তিনি আরও জানান, ওই কমিটির সদস্যরা প্রতিদিন পুর ভবনে বৈঠকে বসবেন এবং সেই বৈঠকে সেদিন কী কী কাজ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে করোনা মোকাবিলায় কী কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্থির করা হবে। এছাড়াও আসন্ন বর্ষায় যাতে কলকাতা পুরসভা এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা যাতে ঠিকঠাক থাকে সে বিষয়টি দেখবার জন্য এদিন ফিরহাদ হাকিম নবগঠিত প্রশাসনিক বোর্ডের নিকাশি ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন পুর পিতারা থাকবেন পুরসভার কো-অর্ডিনেটর হিসেবে।

বিরোধী দলগুলোর তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে কোনও আইএএস অফিসারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ না করে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কেন প্রশাসক নিয়োগ করা হল? এ ব্যাপারে ফিরহাদ হাকিম জানান, একজন আমলার পক্ষে পুর এলাকার কোথায় কী প্রয়োজন ও কোথায় কীসের অভাব রয়েছে, তা কখনও জানা সম্ভব নয়। তাই রাজ্য সরকার অনেক ভেবে চিন্তে তাঁকে প্রশাসক নিয়োগ করেছেন।

প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার যেভাবে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক হিসাবে প্রাক্তন মেয়রকে নিয়োগ করেছেন তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবারই ওই আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার রাজ্য সরকার নিযুক্ত প্রশাসক ও প্রশাসনিক বোর্ডের নিয়োগকে অস্থায়ী হিসাবে নির্দিষ্ট করে ওই মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য একমাস বাদের একটি দিন ধার্য করে দেন। আর সেই পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ওই প্রশাসককে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধীরা বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের গতকালের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আগামী মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করতে চলেছে। তাদের অভিযোগ, যেভাবে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রকে ওই পুরসভারই প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে সেটা নিতান্তই বেআইনি।