টোটোদের মধ্যে প্রথম স্নাতকোত্তর হয়েও চাকরি পাননি ধনঞ্জয়

409

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : উত্তরবঙ্গের টোটো জনজাতির মধ্যে প্রথম পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট হয়েছিলেন ধনঞ্জয় টোটো। লাইব্রেরি সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পাশ করেছিলেন তিনি। সেটা ২০১৬ সাল। তারপর কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর। কিন্তু এত বছর পরেও সরকারি চাকরি জোটেনি ধনঞ্জয়ের। চাকরির জন্য মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর কাছে আবেদন করেছিলেন ধনঞ্জয়। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। মাদারিহাটের টোটোপাড়ার উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকার বিভিন্ন দাবি করলেও কর্মসংস্থানের বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে অনেক শিক্ষিত ছেলেমেয়ে ভুটান, সিকিম এমনকি কেরলে দিনমজুরের কাজ করতে চলে যাচ্ছেন। ধনঞ্জয়ের আক্ষেপ, উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের বহু গ্রন্থাগারে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও চাকরি হল না। যা পরিস্থিতি তাতে আমারও স্ত্রী ও নয় মাসের সন্তানকে ফেলে কেরলে দিনমজুরির কাজ করতে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার দুই জেলার দায়িত্বে রয়েছেন গ্রন্থাগার আধিকারিক শিবনাথ দে। তিনি জানান, কোচবিহারে গ্রন্থাগারিকের মোট পদ ২৪৪টি। শূন্যপদের সংখ্যা ১৪৭টি। আলিপুরদুয়ার জেলায় গ্রন্থাগারিকের মোট পদ ৮৩টি। শূন্যপদের সংখ্যা ৫৫টি। কর্মীর অভাবে দুই জেলায় বন্ধ রয়েছে ৬৫টি গ্রন্থাগার। একজন গ্রন্থাগারিককে একসঙ্গে দু-তিনটি গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ২০১১ সালে বাম জমানায় শেষবার এই পদগুলিতে নিয়োগ হয়েছিল। তারপর থেকে সব বন্ধ। ধনঞ্জয়বাবু জানান, খুব আশা নিয়ে লাইব্রেরি সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ভেবেছিলেন, সরকারি চাকরি পাবেন। এখন সেখানে দিনমজুরি করার কথা ভাবতে হচ্ছে।

- Advertisement -

টোটোপাড়ার আরেক স্নাতক অভিষেক টোটো বলেন, স্বপ্ন ছিল সরকারি চাকরি পাব। অনেক ভৌগোলিক ও আর্থিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে পড়াশোনা করেছি। আর এখন পরিবারের হাল ধরতে দিনহাজিরার কাজ করতে হচ্ছে। চাকরি না পেয়ে গ্রাম ফাঁকা করে সবাই অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। টোটো কল্যাণ সমিতির সভাপতি অশোক টোটো জানান, আদিম টোটো জনজাতি ভারতের আর কোথাও নেই। টোটোদের মধ্যে প্রথম পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট ধনঞ্জয় তাঁদের গর্ব। অথচ তাঁর চাকরি নেই। আদিম জনজাতি হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে তাঁদের আলাদা কোটার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন অশোক টোটো।