এবার করোনার থাবা মাথাভাঙ্গায়, একসঙ্গে আক্রান্ত তিন

625

ঘোকসাডাঙ্গা: রাজ্য হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা। ইতিমধ্যে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন জায়গায় করোনা সংক্রমনের হদিস মিললেও মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকে কারও শরীরে করোনার হদিস পাওয়া যায়নি বলে খবর ছিল প্রশাসনের তরফে। কিন্তু শুক্রবার মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকে একসঙ্গে তিনজন করোনা সংক্রামিত হলেন। শুক্রবার রাতেই স্বাস্থ্য দপ্তর মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের তিন জনকে চকচকার কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার মাথাভাঙ্গা ব্লকের তিন আক্রান্তের বাড়ি সহ পাশ্ববর্তী এলাকাকে কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ব্লক প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ৯ মে মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের গুমানিহাটে প্রথম পর্যায়ে ৭৩ জন পরিযায়ী শ্রমিকের লালার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। গত ২২ জুন মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের ঘোকসাডাঙ্গা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২য় পর্যায়ে ১৯৭ জনের লালার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। যার রিপোর্ট আসে শুক্রবার। এই রিপোর্টে তিন জনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। বাকিদের নেগেটিভ। এই তিন জনের মধ্যে দুই জনের বাড়ি ঘোকসাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। একজনের বাড়ি রুইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

- Advertisement -

এদিকে এদিন আক্রান্তদের বাড়ি পরিদর্শন করেন মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের বিডিও রজত রঞ্জন দাস, ঘোকসাডাঙ্গা থানার ওসি দেবাশিস রায়, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ সুভাষ গায়েন সহ অন্য আধিকারিকরা। আক্রান্তদের বাড়ি চারপাশ বাঁশ দিয়ে ঘিরে কন্টেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে খবর, এই তিন জনের এক জনের বাড়ি ঘোকসাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় শিমুলগুড়ির জামেরগোড় এলাকায়। তিনি কিছু দিন আগে কেরল থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন। এরপর ১৪ দিন কোয়ারান্টিন সেন্টারে থাকার পর বাড়িতে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টিনে ছিলেন। কিন্তু, তারপর লালা নমুনার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। আর একজন ঘোকসাডাঙ্গা পুরান থানামোড় এলাকার নিবাসী এক মহিলার। তাঁর স্বামী আসামে থাকেন। কিছুদিন আগে তিনি বাড়ি ফিরে কোয়ারান্টিন সেন্টারে ও হোম কোয়ারান্টিনে ছিলেন। তাঁর মেয়ের কোচবিহারের এক নার্সিং হোমে প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে ভর্তি হলে মেয়ের দেখা শোনার জন্য নার্সিং হোমে যান। স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, সেখান থেকেই সংক্রমিত হতে পারেন। যদিও ওলি মহিলার স্বামীর লালা নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অন্য জন ঘোকসাডাঙ্গা নিবাসী। তাঁর স্বামী ভুটানে আছেন এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তাই চার মাস আগে রুইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ডাউয়া গুড়ি বাপের বাড়িতে আসেন। সেখানেই থাকেন। কিন্তু তিনি হাসপাতালে রুটিন চেকআপ করতে আসেন। তারঁও লালার নমুনার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। যদিও এই গর্ভবতী মহিলার কোনও ট্রাভেলিং হিস্ট্রি নেই। কিভাবে এই মহিলা সংক্রামিত হলেন তা নিয়ে চিন্তায় স্বাস্থ্য দফতর ও ব্লক প্রশাসন।

এদিকে, লকসডাউন ঘোষণার কিছুদিন পর থেকে ঘোকসাডাঙ্গা সহ মাথাভাঙ্গা ২ ব্লক জুড়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক ব্যবহার করছেন অনেকে,আবার অনেকে এই সব মানছেন না। প্রশানিক ভাবে বিভিন্ন সচেতন মূলক প্রচার সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের খামখেয়ালিপনা নিয়ে চিন্তিত সচেতন নাগরিকরা। এমনকি ব্লকে তিনজন করোনা পজেটিভ এ খবর জানার পরও বিভিন্ন বাজারে মাস্ক ছাড়াই প্রচুর মানুষকে দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে কাল রবিবার ঘোকসাডাঙ্গায় সাপ্তাহিক হাট। হাটে যে পরিমাণ ক্রেতা বিক্রেতার আগমন হয় তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। ঘোকসাডাঙ্গা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মানিক চন্দ্র দে বলেন, এলাকায় করোনা আক্রান্তের খবর আসার পরেই আমরা বিষয়টি ভাবছি। আগামী দিনে কি করা হবে তা খুব শীঘ্রই ঘোকসাডাঙ্গা ব্যবসায়ী সমিতি এক জরুরি সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।