সরকারি হাসপাতালে করোনা সংক্রামিতদের জন্য দু’বেলা মাছ-মাংস

219

কলকাতা : করোনা সংক্রামিত ও অন্য রোগীর পথ্যে বিরাট ফারাক হবে এখন থেকে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুধরনের রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা চালু করেছে রাজ্য সরকার। করোনা সংক্রমণের কারণে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁর পথ্যের জন্য বরাদ্দ অর্থেও বিরাট ফারাক থাকবে এখন থেকে। সাধারণ রোগীদের পথ্যের জন্য সরকারি হাসপাতালে বরাদ্দ দৈনিক ৫৪ টাকা। এতদিন করোনা সংক্রামিতদের জন্যও ওই বরাদ্দে খাবার দেওয়া হত। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকায় করোনা সংক্রামিতদের জন্য বরাদ্দ প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নবান্ন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের জন্য এখন দৈনিক বরাদ্দ থাকবে ১৫০ টাকা। সংক্রামিতদের পথ্যের তালিকাও স্থির করে দিয়েছে নবান্ন।

ওই তালিকা অনুযায়ী সকালের জলখাবারে ডিমসেদ্ধ, কলা ও গরম দুধ থাকতেই হবে। গরম দুধের পরিমাণ হবে ২৫০ মিলিলিটার। এর সঙ্গে দিতে হবে ৪ পিস পাউরুটি। দুপুরের খাবারে ভাত, ডাল, সবজি তো থাকবেই, তার সঙ্গে রোজ মাছ বা ৯০ গ্রাম চিকেন দিতেই হবে। সঙ্গে দই। ১০০ গ্রাম চালের ভাত আর ৫০ গ্রাম ডালও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সবজি হবে মরশুমি। রাতে কেউ ভাত না খেলে রুটি পাবেন। মাছ বা চিকেন থাকবে রাতের মেনুতেও। বরং দুপুরের চেয়ে আরও ১০ গ্রাম চিকেন বেশি পাবেন রোগীরা। সঙ্গে ৫০ গ্রাম ডালও থাকবে। করোনা সংক্রামিতদের প্রোটিনসমৃদ্ধ পথ্যের ব্যবস্থা করতেই এই উদ্যোগ।

- Advertisement -

কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলেছিলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভালো খাবার খাওয়া প্রয়োজন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভালো খাদ্য প্রয়োজন। সেই পরামর্শ মেনে সরকারি হাসপাতালে ভালো পথ্যের ব্যবস্থা করা হল বলে জানা গিয়েছে। তিনবেলাই এইরকম খাবার কিন্তু সাধারণ প্লেট বা থালায় দেওয়া যাবে না। ফয়েল প্যাকেটে ভরে খাবার দিতে হবে করোনা সংক্রামিতদের। এই প্যাকেট খাওয়ার পরই ফেলে দিতে হবে। সংক্রমণ এড়াতেই এই বন্দোবস্ত বলে নবান্ন সূত্রে খবর। একই হাসপাতালে অন্য সমস্যা নিয়ে চিকিৎসাধীনরা কিন্তু এই সুযোগ পাবেন না। তাঁদের জন্য আগের মতোই তিনবেলা খাবারে দৈনিক বরাদ্দ থাকবে ৫৪ টাকা। তবে বেসরকারি হাসপাতালের জন্য এমন কোনও নির্দেশিকার কথা বলা হয়নি। বেসরকারি হাসপাতালে অবশ্য ডায়েটিশিয়ানরা প্রত্যেক রোগীর জন্য মেনু ও খাবারের পরিমাণ ঠিক করে দেন।