লকডাউনের ডিম পোনা না মেলায় সমস্যায় মৎস্য চাষিরা

550

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: লকডাউনের জেরে ডিম পোনার আকালে মৎস্য চাষিদের মাথায় হাত। উত্তরবঙ্গজুড়ে মিষ্টি জলের মাছ চাষ বড় রকমের সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন মৎস্য চাষিরা।

এই সময় জেলার মিষ্টি জলের পুকুর, বিল, ভেড়ি ও বড় জলাশয়ে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, বাটা, জাপানি পুঁটি, গ্রাস কার্পের ডিম পোনা ফেলা হয়। আগামী সাত থেকে আটমাস পর তা বড় হয়ে বাজারের মাছের চাহিদা অনেকটা পূরণ করে। লকডাউনের কারণে ডিম ফোটানোর কাজ ব্যাহত হওয়ায় উত্তর দিনাজপুর জেলা সহ উত্তরবঙ্গের মৎস্য চাষিরা ডিম পোনা জোগাড় করতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবে এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গজুড়ে মিষ্টি জলের মাছ চাষ বড় রকমের সংকটের মুখে পড়ল বলে মনে করছেন মৎস্য চাষিরা। যার ধাক্কায় আগামী দিনে উত্তরের জেলাগুলির বাজারে মিষ্টিজলের মাছের জোগানে বড় রকমের ছন্দপতন হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

- Advertisement -

জেলা মৎস্য দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার মৎস্য চাষিরা মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, হুগলি ওপশ্চিম মেদিনীপুরের ডিম পোনার ওপর নির্ভরশীল। জেলায় দু-একটি বেসরকারি উদ্যোগে হ্যাচারি গড়ে উঠলেও দক্ষিণবঙ্গের ডিম পোনার উপর নির্ভর করতে হয় তাঁদের।

মৎস্য চাষিরা এবার ডিম পোনা ফেলবে বলে জেলার প্রায় সব জায়গাতে পুকুর ও বিল শুকিয়ে তার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ডিম পোনা না পাওয়াতে সেই কাজ করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: দিল্লি ও আজমের শরীফ থেকে ফালাকাটায় ফিরলেন ২৪ জন

জেলায় চাষযোগ্য জলাভূমির পরিমাণ ৫ হাজার ১৫৬ হেক্টর। মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্তদের কথায়, ডিম পোনা ছাড়ার জন্য পুকুর শুকনো হয়েছে। গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তার কাজ হলেও লকডাউনে কিছুই করা যায়নি। সকলের এখন মাথায় হাত। পুকুরে ডিমপোনা ছাড়তে না পারলে সারা বছর খাব কী?

চাকুলিয়া বিধানসভা আসনের নিজামপুর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ামতপুর গ্রামের এলাকার বাসিন্দা মৎস্য চাষি রঞ্জিত সরকার বলেন, ‘ডিম পোনা ফোটানোর উপযুক্ত সময় মার্চ মাসের প্রথম থেকে। আমাদের এখান থেকে হুগলি, বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ডিম পোনা আনা হয়। এবার প্রথম দিকে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ডিম পোনা হয়নি। দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই কাজ হয়। লকডাউনের কারণে ডিম পোনার দামও প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া গাড়ি ভাড়াও বেড়ে গিয়েছে। জানি না আদৌ এবার পুকুরে ডিম পোনা ছাড়তে পারব কিনা। মাছ চাষ করেই অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। ডিম পোনা না পেলে তাঁদের পথে বসতে হবে। এদিকে ডিম পোনা ছাড়ার সময়ও পেরিয়ে যাচ্ছে।

উত্তর দিনাজপুর জেলা মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক বিশ্বনাথ বসাক জানান, লকডাউনের কারণে ডিম পোনা পেতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ডিম পোনার গাড়ি চলাচলের ছাড় রয়েছে। যেটুকু সমস্যা রয়েছে আশাকরি তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে। এছাড়া জেলার হেমতবাদে একটি হ্যাচারি আছে। চাষিরা চাইলে সেখান থেকে ডিম পোনা সংগ্রহ করতে পারেন। তাহলে সমস্যা খানিকটা হলেও মিটে যায়।