চরতোর্ষা নদীর ঘোলা জলে ভেসে উঠল মাছ

653

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ঘোলা জলে মাছ ধরার হিড়িক শুরু হয়েছে ফালাকাটায়। বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টিতে ব্লকের চরতোর্ষা নদীতে ঘোলা জল বইতে শুরু করে। সেই জলে নানা প্রজাতির মাছও ভেসে ওঠে। তাই সকাল থেকেই নদীতে মাছ ধরার হিড়িক পড়ে যায়।

সামাজিক দূরত্ব বিধি না মেনে মাস্ক ছাড়াই নদীতে মাছ ধরতে নেমে পড়েন আশপাশের এলাকার কিশোর, যুবক থেকে মাঝবয়সীরা। তবে হঠাৎ নদীর জল এত ঘোলা হল কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ডলোমাইট মিশে জল ঘোলা হয়েছে। এজন্য এদিন প্রচুর মাছ ভেসে ওঠে।

- Advertisement -

পরিবেশপ্রেমীরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফালাকাটা ব্লক মৎস আধিকারিক দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘কী কারণে জল এত ঘোলা হয়েছে তা পরীক্ষা করা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। তবে অতিরিক্ত ঘোলা জলের কারণে হয়তো অক্সিজেনের অভাব দেখা দিয়েছে। এজন্যই মাছ ভেসে উঠতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ভুটান থেকে বয়ে আসা তোর্ষা নদীর সঙ্গে সংযোগ রয়েছে চরতোর্ষা নদীর। এই নদীর উত্তর দিকে উজানে রয়েছে জলদাপাড়া বনাঞ্চল। পাহাড়ে বেশি বৃষ্টি হলেই নদীর জল ঘোলা হয়। তবে শুক্রবারের মত আগে কখনও এত পরিমাণ ঘোলা জল এই নদীতে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার রাতে পাহাড় এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই বৃষ্টির জলের সাথে প্রচুর ডলোমাইট নদীতে মিশে গিয়েছে।

এজন্য এদিন নদীর জল মারাত্মকভাবে ঘোলা ছিল। সেই ডলোমাইট মিশ্রিত জলে ভেসে ওঠে নদীয়ালি মাছ। তা দেখেই এদিন সকাল থেকে নদীতে মাছ ধরতে নেমে পড়েন এলাকার বহু মানুষ বংশীধরপুর, বালুরঘাট, শিশাগোড়, কালীপুর এলাকার মানুষ বিভিন্ন জাল ও হাত দিয়ে মাছ ধরেন। প্রত্যেকেই গড়ে ২-৩ কেজি করে মাছ পান। শোল, বোরোলি, পিটকাঁটা, পুঁটি মাছ সহ আরও নানা প্রজাতির মাছ ধরতে পেরে খুশি এলাকার মানুষ।

স্থানীয় নরেশ বালো বলেন, ‘এত ঘোলা জল আগে কখনও দেখিনি। ঘোলা জলের জন্যই নদীর মাছ ভেসে ওঠে। নদীর ধারে হাত দিয়েও অনেক মাছ ধরেছি।’ সব মিলে তিনি ২ কেজি মাছ ধরেছেন বলে জানান। আরেক বাসিন্দা পরিমল সরকার বলেন, ‘এভাবে আগে কখনও নদীর মাছ ভেসে ওঠেনি। আজকে সবাই অবাক হয়ে গিয়েছি। তাই মাছ ধরার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করেনি। আমিও ৩ কেজি মাছ ধরেছি।’

বিষয়টি নিয়ে পরিবেশপ্রেমীরা চিন্তিত। ফালাকাটার পরিবেপ্রেমী প্রাণীবিদ্যার শিক্ষক প্রবীর রায়চৌধুরি বলেন, ‘এ তো ভয়ানক অবস্থা। এভাবে ডলোমাইট নদীর জলে মিশলে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীরও মারাত্মক ক্ষতি হবে। নদীর বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে৷ প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা।’