অভিনব উপায়ে মাছ চাষ করে স্বনির্ভরতার দিশা দেখাচ্ছেন মহকুমাশাসক

520

মাথাভাঙ্গা, ২২ জুলাই : চাকরি না করেও যে স্বনির্ভর হওয়া যায় সেটা হাতে কলমে দেখিয়ে দিতে নিজের বাংলোর পড়ে থাকা জমিতে অভিনব উপায়ে মাছ চাষ করেছেন মাথাভাঙ্গার মহকুমাশাসক শুভ্রজ্যোতি ঘোষ। মাস ছয়েক আগে শুরু হওয়া মাথাভাঙ্গা মহকুমার শাসকের বাংলোর অভিনব উপায়ে মাছ চাষের খবর পৌঁছে যায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে। রবিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক প্রতিনিধিদল মাথাভাঙ্গামহকুমা শাসকের বাংলোতে এসে অভিনব উপায় মাছ চাষের পদ্ধতি দেখে কার্যত অভিভূত। পাশাপাশি তারা স্বীকার করলেন বেকার যুবক-যুবতীরা কর্মসংস্থান এর বিকল্প পদ্ধতি হিসাবে অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন অভিনব উপায়ের এই মাছ চাষকে।

মাথাভাঙ্গা মহকুমাশাসক হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার পর শুভ্রজ্যোতি ঘোষ  লক্ষ্য করেন, উত্তরবঙ্গে মাছ চাষের অন্যতম সমস্যা পুকুরগুলিতে সারা বছর জল না থাকা। তাই তিনি জেলা মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় এবং বিশিষ্ট মৎস্যবিজ্ঞানী কৃপাণ সরকার ও এলাকার পুরস্কার প্রাপ্ত মৎস্যচাষি লক্ষীকান্ত বর্মনের সাহায্য নিয়ে নিজের সরকারি বাংলোর পড়ে থাকা জমিতে অগভীর পুকুর তৈরি করে তাতে প্লাস্টিক পেতে মাছ চাষ শুরু করেন। তবে শুধু মাছ চাষ নয়, ইন্টিগ্রেটেড ফিশারিজের অঙ্গ হিসাবে মাছ চাষের পাশাপাশি একই সঙ্গে হাঁস পালনের ব্যবস্থা ও করেছেন তিনি। কারণ হাঁসের মল মাছের অন্যতম খাদ্য। এছাড়াও হাঁসের ডিমের বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়।

- Advertisement -

ইতিমধ্যে মাথাভাঙ্গা মহকুমাশাসকের বাংলোতে অভিনব মাছ চাষের পুকুরে ট্যাংরা, পাবদা, শিঙ্গি, রুই, কাতলা, আমুর ছাড়াও রঙিন মাছও বেড়ে উঠছে স্বাভাবিকভাবে। মহকুমাশাসক জানান, মাছ চাষের পুকুরের জল ব্যবহার করে (অ্যাকোয়াকালচার) সেই জল  পুনরায় পরিশুদ্ধ করে পুকুরে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডঃ সৌরভ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এখানে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ খুবই ভালো। মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এবং লাভজনক।’ মহকুমাশাসক বলেন, ‘চাকরির অপেক্ষায় বসে না থেকে বাড়ির পড়ে থাকা জমিতে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে খুব সহজেই যে স্বনির্ভর হওয়া যায় সেটা প্রমাণ করতেই এই প্রকল্প।’

ছবিঃ মহকুমা শাসকের বাংলাতে মাছ চাষ দেখতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল।

ছবি ও তথ্য-বিশ্বজিৎ সাহা