কার্যত লকডাউনে কাজ না থাকায় নদী থেকে মাছ ধরছেন মৎস্যপ্রেমীরা

112
ফালাকাটা:  করোনা সংক্রমণের জেরে রাজ্যে কার্যত লকডাউন চলছে। যার ফলে কাজ না থাকায় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে ফালাকাটার তোর্ষা সহ অন্যান্য নদীতে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন মৎস্যপ্রেমীরাও। ফালাকাটা ব্লকে ছোট বড় একাধিক নদী রয়েছে। অনেক নদীতে গ্রীষ্মকালে সেরকম জল থাকে না। আবার খরস্রোতা নদীতেও এখন জল কম রয়েছে। তবে মাছের ক্ষেত্রে চরতোর্ষা, বুড়িতোর্ষা, শিলতোর্ষা, মুজনাই নদী বিখ্যাত। এখন মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি মৎস্যপ্রেমীরাও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
কারণ, নদীতে করোনায় মৃত দেহ ভেসে আসার পর থেকে অনেকেই চালানি মাছ খেতে চাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় নদীয়ালি মাছের দামও বেড়েছে। নানা পেশার মানুষ জাল নিয়ে মাছ ধরতে চলে যাচ্ছেন নদীতে। ফালাকাটার তোর্ষা নদী বোরোলি মাছের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও নানা প্রজাতির মাছ রয়েছে। নিজেরা ধরে মাছ খাওয়ার তৃপ্তিই আলাদা বলে মৎস্যপ্রেমীরা জানিয়েছেন। শিশাগোড়ে পান, মশলার দোকান রয়েছে সূর্য সরকারের। সরকারি চাকরি করেন পবন সরকার। ব্যবসা করেন চিত্তরঞ্জন সরকার। তাঁদের মত আরও অনেককেই এখন জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরতে দেখা যাচ্ছে। জালে ধরা পড়ছে বোরোলি, পুঁটি, ঘাকসি, পিঠকাটা, চিংড়ি, ট্যাংরার মত নদীয়ালি মাছ।
সূর্য বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখি। তারপর সারাদিন সময় কাটে না। তাই দুপুরের দিকে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছি।’ পবন সরকার বলেন, ‘এখন অফিস বন্ধ। চালানি মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। বাজারে স্থানীয় নদীয়ালি মাছের দামও চড়া। তাই নিজেরাই মাছ ধরতে নদীতে যাচ্ছি। পরিমাণে কম হলেও সেই মাছের স্বাদই আলাদা।’ জানা গিয়েছে, কখনও ৭-৮ জন মিলে জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন। কখনও আবার কেউ একাই স্নানের আগে মাছ ধরছেন। এভাবেই ফালাকাটার বিভিন্ন নদীতে এখন মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি মৎস্যপ্রেমীদেরও ভিড় বেড়েছে।