ভরা বর্ষাতেও নদীয়ালি মাছের আকাল ডুয়ার্সে

238

গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি : ভরা বর্ষাতেও মিলছে না নদীয়ালি মাছ। নদী-নালা, খাল-বিল জলে টইটম্বুর। অথচ নদীয়ালি মাছ না মেলায় সাধারণ ক্রেতারা হতাশ। ডুয়ার্সের কামাখ্যাগুড়ি, বারবিশায় মাছের বাজারগুলিতে এখন বাইরের চালানি মাছেই ভরে গিয়েছে। ক্রেতারাও এখন নদীয়ালি মাছের আশা ছেড়ে দিয়ে চালানি মাছের স্বাদ নিচ্ছেন। কয়েক বছর আগেও বর্ষায় জল বাড়লেই ডুয়ার্সের নদীগুলিতে মিলত প্রচুর পরিমাণে নদীয়ালি মাছ। পুঁটি, সাটি, বইচা, খইলসা, চান্দা, পয়া, দারকিনা, বেলে, বালিচাটা, ঘুলসা আরও কত কী। সুস্বাদু বোরোলি মাছ তো রয়েছেই। মাছে ভরে যেত বাজার। এখন বাজারে ওইসব মাছের দেখাই মিলছে না। রায়ডাক, সংকোশেও মিলছে না আগের মতো মাছ, এতে জেলার নারারথলি, লস্করপাড়া, গচিমারি, ডাঙ্গি এলাকার মৎসজীবীরাও বিপাকে পড়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ ও মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মদন বর্মন এ বছর নদীয়ালি মাছের আমদানি কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, এখন নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। চার পাঁচজন মৎস্যজীবী সারারাত খেটে মেরেকেটে দুকেজির বেশি মাছ পাচ্ছেন না। ওইটুকু মাছ স্থানীয় এলাকাতেই বিক্রি হয়ে যায়। বাজারে তুলতেই পারেন না তাঁরা। নদীয়ালি মাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে মৎস্য আধিকারিক সোনম ওয়াংদি জানান, পলি জমে নদী ভরে যাওয়ায় স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় মাছের প্রজনন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। নদীগর্ভে চাষাবাদ, কৃষিকাজে কীটনাশক ব্যবহার, জমির কীটনাশক নদীর জলে মিশে মাছ মারা পড়ছে। নদীর মাছ ধরার জন্য বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়াও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরা, নদীয়ালি মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। নদীতে বিষ প্রয়োগ করার ফলে মাছের ডিম ও পোনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মৎস্যবিভাগ নদীয়ালি মাছের পরিমাণ বাড়াতে চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। কামাখ্যাগুড়ির মাছ ব্যবসায়ী নিখিল বর্মন জানান, নদীয়ালি মাছের আমদানি একেবারেই নেই। এই সময়ে নদীয়ালি মাছের আকাল আগের বছরগুলিতে লক্ষ করা যায়নি। মাছ ব্যবসায়ী মনমোহন বর্মন জানান, নদীয়ালি মাছ না পেয়ে বাইরের মাছের উপরেই চলছে ব্যবসা। বাজারে নদীয়ালি মাছের অভাবটা এই বছর বেশি নজরে পড়ছে।

- Advertisement -

কামাখ্যাগুড়ির এক ক্রেতা জানান, ভরা বর্ষাতেও নদীয়ালি মাছ মিলছে না। বাধ্য হয়ে বরফের মাছই কিনতে হচ্ছে। মানুষ সচেতন না হলে মাছে-ভাতে বাঙালিকে নদীয়ালি মাছের জন্য হাপিত্যেস করতে হবে। জেলা মৎস্য আধিকারিক সোনম ওয়াংদি বলেন, মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নদীয়ালি মাছের পরিমাণ বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।