উত্তরাখণ্ডে ট্রেকে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার পাঁচ পর্বতারোহী, নিখোঁজ বহু

151
ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: পাহাড় ভালোবেসে উত্তরাখণ্ডে পাড়ি দিতেই বিপত্তি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে উত্তরাখণ্ডে প্রাণ হারালেন বাংলার পাঁচ পর্বতারোহী। বৃহস্পতিবার তাঁদের দেহ উদ্ধার করে উত্তরাখণ্ডের রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ৭০ জন বাঙালি উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এ রাজ্য থেকে গিয়ে আটকে পড়া পর্বতারোহীদের উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করেছে ‘নবান্ন’। খুব দ্রুত যাতে তাঁদের ফিরিয়ে আনা যায়, সেবিষয়ে উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে রাজ্য সরকার।

উত্তরাখণ্ড রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ডিআইজি রিধিম আগরওয়াল জানিয়েছেন, ১৪ অক্টোবর উত্তরাখণ্ডের হরশিল থেকে হিমাচল প্রদেশের চিঠকুলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ১১ জনের একটি দল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৮ জন পর্বতারোহী, একজন রাঁধুনি এবং দু’জন গাইড। ১৭ অক্টোবর আবহাওয়ার অবনতি হতেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমতল থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট উঁচুতে বিপর্যয় ঘটে বলে জানানো হয়েছে উদ্ধারকারীদের তরফে।

- Advertisement -

বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই পাঁচ জনের দেহ চিহ্নিত করা গিয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য পর্বতারোহীদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরকাশীর একটি ভ্রমণ সংস্থার তরফে তাঁদের এই অভিযানের আয়োজন করা হয়েছিল। পাহাড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই তারাই প্রথম বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বাঙালি পর্বতারোহীদের মধ্যে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির তিনজন রয়েছেন। সেই দলের সদস্য কমলেশ ঝায়ের স্ত্রী অর্পিতা ঝা জানান, গত ১৩ অক্টোবর মেমারি থেকে পঞ্চশালি যাত্রা করেন তিনজনের একটি দল। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাড়িতে ফোন করে কমলেশ ঝাঁ কথা বলেন। ১৬ তারিখ পঞ্চশালিতে বৃষ্টি এবং তুষারপাত শুরু হওয়ায় কমলেশ ঝাঁয়ের সঙ্গে বাড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি আবার তাঁদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনা ঘটেছে কুমায়ুন অঞ্চলের বাগেশ্বর জেলায়। পিণ্ডারি হিমবাহের কাছে ৬০ জন আটকে পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সেই দলে রয়েছেন ২৪ জন এদেশীয় পর্বতারোহী, ৬ জন বিদেশি, এবং ৩০ জন স্থানীয় গ্রামবাসী। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ জন নিখোঁজ। আটকে পড়াদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। ইতিমধ্যেই চিনুক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, একটানা বৃষ্টির জেরে একেবারেই বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫০ জন। একাধিক জায়গার পরিস্থিতি ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। এমনিতেই বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমে কার্যত গোটা উত্তরাখণ্ডজুড়ে আটকে রয়েছে প্রায় হাজার পর্যটক। গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও ভালো ধারণার জন্য উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামি অতিবৃষ্টিতে প্রভাবিত বিভিন্ন এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জানান, বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে পর্যটকদের সরিয়ে আনতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনা পাঠানো হচ্ছে। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে টেলিফোনে কথা বলেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তরাখণ্ড সরকার সক্রিয়ভাবে কাজে নামলেও এই মুহূর্তে প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকাজে।

এদিকে গোটা রাজ্যেই মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ না করায় কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এদিকে টিভির পর্দায় ওই এলাকায় পাহাড়ি ধস এবং বন্যার ছবি দেখে গভীর চিন্তায় আছেন পর্যটকদের পরিবারের লোকেরা। তাঁরা চাইছেন রাজ্য প্রশাসনের তরফে দ্রুত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা যায়। আগামী রবিবার তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। পরিবারের লোকেরা এখন বুঝে উঠতে পারছেন না কবে তাঁরা ঘরে ফিরবেন। আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা।