লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত পাঁচ, গ্রেপ্তার পলাতক চালক

121

বর্ধমান: বেপরোয়া গতির লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার লরি চালক। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোরে শক্তিগড় স্টেশনবাজার এলাকার পার্কিং থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম দেবেন্দ্রপ্রসাদ হরিজন। উত্তর প্রদেশের ওভাও থানার তেন্ডুয়ার তার বাড়ি। ঘাতক লরিটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

জাতীয় সড়কে পালসিটে বুধবার বিকালে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ লরি চালকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি জেনেবুঝে মৃত্যু ঘটানো ও খুনের চেষ্টার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। এদিন ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঘটনার পিছনে কোনও মোটিভ কাজ করেছে কিনা তা জানতে ধৃত লরি চালককে ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সিজেএম ধৃতকে ৪ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

- Advertisement -

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার বিকালে পালশিট স্টেশন লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা সকলেই বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার দিক থেকে আসা লরিটি দ্রুত গতিতে এসে প্রথমে একটি বাইকের পিছনে ধাক্কা মারে। তারপর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজনকে ধাক্কা মেরে লরিটি পালায়। তাতে ১৩ জন জখম হয়। জখমদের মধ্যে শুভম বৈরাগ্য (১৭), অনিমেষ রায় (২০), শান্তি কোঁড়া (২০), বিকাশ শর্মা (৫০)ও রূপম সরকার (১৬) মারা যান। বিকাশের বাড়ি পালশিটের নতুনপল্লিতে। শান্তির বাড়ি হুগলির শিবাইচণ্ডীতে। শুভম, অনিমেষ ও রূপমের বাড়ি শক্তিগড় থানার বড়শুলে। নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বিকাশের দাদা বীরেন্দ্র শর্মা ঘটনার দিন রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ ঘাতক লরি ও তার চালকের খোঁজ শুরু করে। এদিন ভোরে পুলিশ অভিযুক্ত লরি চালককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।