কোচবিহারে পাঁচশো বছরের প্রাচীন পুজোর ঢাকে কাঠি

149

কোচবিহার: পুজোর ঢাকের কাঠি পড়েছে আগেই। এবার ময়নাদণ্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে কার্যত পুজো শুরু হয়ে গেল কোচবিহারে। রাজ আমলের রীতিনীতি মেনে মঙ্গলবার বড়দেবীর মূর্তি স্থাপনের মূলদণ্ড ময়নাকাঠ ট্রলিতে স্থাপন করা হয়। তিনদিন বিশেষ পুজোর পর সেখানে বড়দেবীর মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হবে। পুজোর আর একমাসও বাকি নেই। করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবন যতই বিধ্বস্ত করে দিক না কেন রাজ আমলের রীতিতে কোনওরকম কাটছাঁট করা হয়নি। দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রেই জানা গিয়েছে, শ্রাবণের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে ময়নাকাঠ পুজোর মাধ্যমে বড়োদেবীর পুজোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর এক মাস ধরে মদনমোহন বাড়িতে সেই ময়নাকাঠ রাখা হয়। সেখানেও পুজো চলেছে।

মঙ্গলবার রাধাষ্টমী তিথিতে সেই ময়নাকাঠ নিয়ে যাওয়া হয় বড়দেবী বাড়িতে। সেখানে মহাস্নান শেষে পায়রা বলি ও পরমান্ন ভোগ দিয়ে পুজো করা হয়। পুজো করেন রাজপুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। পুজো দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হন। তিনদিন সেই ময়না কাঠকে হাওয়া খাওয়ানো হবে। এরপর সেখানেই শুরু হবে দেবীর মূর্তি গড়ার কাজ। সেই মূর্তির মূলদণ্ড হবে ময়নাকাঠ। সেই মুহূর্তেই দুর্গোৎসবের সময় পুজো হবে। কোচবিহারের ইতিহাস অনুযায়ী বড়দেবীর মূর্তি অন্যান্য দুর্গা প্রতিমার থেকে অনেকটাই আলাদা। এখানে দুর্গার সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীর বদলে থাকেন জয়া, বিজয়া। কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ স্বপ্নে দেবীর এই চেহারা দেখেছিলেন। তখন থেকেই এই রূপে দেবীর পুজো হয়ে আসছে।

- Advertisement -

রাজপুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, এই পুজো প্রায় পাঁচশো বছরের প্রাচীন। রাজ আমলের পুঁথি দেখেই এখানে পুজো করা হয়েছে। ঢাকের আওয়াজ মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।