অক্সিজেন সংকট মেটাতে ৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে পূর্ব বর্ধমানে

108

বর্ধমান: করোনা আবহে অক্সিজেন সংকট মেটাতে ৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। বুধবার জেলার কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন জেলার প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠকে জেলা শাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, ৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের ২টি কালনা ও ১টি কাটোয়ায় গড়া হবে। আর বাকি দু’টির ১টি গড়া হবে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং অন্যটি গড়া হবে বর্ধমানে থাকা জেলার কৃষি খামারে। বৈঠকে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা ছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা সভাপতি শম্পা ধাড়া, সহ সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা শাসক বলেন, ‘বর্তমানে জেলায় অক্সিজেনের অভাব নেই। তবুও অক্সিজেনের বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র গুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও আছড়ে পড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রতিদিনই জেলায় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ১৫ এপ্রিল জেলায় ২০২ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এদিন পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩২২৪। পরবর্তী ২৬ দিনে অর্থাৎ ১১ মে পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫১১৮ জন। স্বাস্থ্যদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৬ দিনে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১৮৭৪ জন। অপরদিকে, ১৫ এপ্রিল প্রর্যন্ত জেলায় কোভিডে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৮০ জন। ১১ মে সেই মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২২৬ জন। অর্থাৎ গত ২৬ দিনে জেলায় কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।’

- Advertisement -

বৈঠকে কোভিডের চিকিৎসায় জেলায় অক্সিজেনের প্রয়োজন ও যোগান নিয়েও আলোচনা হয়। কারণ কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর জেলায় অক্সিজেনের যোগান নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। তারপরেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন অভিযান চালানো হয়। অক্সিজেন নির্মাতাদের সঙ্গেও কথা বলা হয়। এছাড়া বর্ধমান ফুডিস ক্লাবের মত কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রয়োজনের সময় বিপন্ন মানুষের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। এসবের জন্যই এখন জেলায় অক্সিজেনের যোগান ঘাটতি নেই বলেই দাবি জেলা প্রশাসনের। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘জেলায় কোভিড বিধি মেনেই সকলকে চলতে হবে। বর্ধমানের কৃষিখামারেও কোভিডের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। কোভিডের চিকিৎসায় অক্সিজেনের অভাব হবে না।’