কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালের দুই চিকিৎসক সহ করোনায় আক্রান্ত পাঁচ

399
প্রতীকী ছবি।

কলকাতা: এ রাজ্যে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার সময় থেকেই ই এম বাইপাসের ধারে পঞ্চসায়রের পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। কিন্তু তারপরেও অনেকদিন কেটে গেলেও সেখানকার কোনও চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। অনেকটা স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ তবে সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হল না।

বুধবার পিয়ারলেস হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক, একজন নার্স এবং দুজন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে৷ আর তার জেরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল জুড়ে। পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুপমেন্ট বা পিপিই পড়ে চিকিৎসা করা সত্ত্বেও কীভাবে এরা করোনা আক্রান্ত হলেন, তা নিয়ে ধন্দে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবারই করোনা আক্রান্ত দুই চিকিৎসককে সল্টলেক আমরি হাসপাতালে এবং নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের টালিগঞ্জের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

- Advertisement -

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা সরকারি,বেসরকারি হাসপাতাল নার্সিংহোমে একের পর এক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।অনেক ক্ষেত্রেই সমস্ত রকম সুরক্ষা থাকা সত্বেও চিকিৎসকরা ভাইরাসের করাল থাবা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারছেন না। একদিকে করোনা আতঙ্ক ও তার সঙ্গে লকডাউন, দুয়ে মিলে এমনিতেই স্বাস্থ্য পরিষেবার অবস্থা জেরবার। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত রোজ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে চিন্তার ভাঁজ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের কপালে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর চিকিৎসা পরিষেবা সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আবেদন জানিয়েছে আরও বেশি সতর্ক হতে এবং সমস্ত রকম সুরক্ষা বিধি মেনে রোগী দেখার জন্য।

অপরদিকে বিশ্বজুড়ে মারণ অতিমারী নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা প্রতিরোধে লড়ছে ময়দানে নমেছেন। আর তার জেরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসক-নার্সরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও হচ্ছেন। এমনকি মৃত্যুও হচ্ছে অনেকের। তবু লড়াই থেমে থাকেনি। ভারতবর্ষেও করোনা ভাইরাসের থাবায় ১০০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন গোটা দেশে প্রায় ৩২,০০০ হাজারের বেশি মানুষ। এদেশে এখনও পর্যন্ত ৯ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে। পশ্চিমবঙ্গে ও করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না চিকিৎসক-নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর এরই জেরে চিন্তিত রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।