কোভিড-১৯ এর ওষুধ পাচ্ছে পাঁচ রাজ্য, দ্বিতীয় দফায় আসবে পশ্চিমবঙ্গেও

4878
ফাইল ছবি।

নয়াদিল্লি: হায়দরাবাদের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা হেটেরো ও মুম্বইয়ের সিপলা ভারতে রেমডেসিভিরের জেনেরিক ভার্সন তৈরি ও বিক্রির অনুমতি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকায় ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্ত সংকটজনক রোগীদের ওপর জন্য রেমডিসিভির নামে ওই ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাপানে সমস্ত করোনা সংক্রমিতের ওপর ওই ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে সেদেশের সরকার। ভালো ফলও মিলেছে। ভারতেও করোনা আক্রান্তদের রেমডিসিভির দেওয়া হবে।

রেমডেসিভিরের প্রধান প্রস্তুতকারক সংস্থা আমেরিকার জিলিয়াড সায়েন্সেস। তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারতের দুই সংস্থা হেটেরো ও সিপলা। ওই দুই সংস্থা ভারতে রেমডেসিভিরের জেনেরিক ভার্সন তৈরি ও বিক্রির অনুমতি পেয়েছে।

- Advertisement -

হেটেরোর তরফে রেমডেসিভিরের প্রথম ব্যাচের ২০ হাজার শিশি মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তেলেঙ্গানাও রেমডেসিভিরের প্রথম ব্যাচের জেনেরিক ভার্সন পাবে। হেটেরোর তরফে আগামী তিন-চার সপ্তাহে এক লক্ষ শিশি রেমডেসিভির উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নেওয়া হয়েছে। হেটেরোর তৈরি রেমডেসিভিরের জেনেরিক ভার্সনের ব্র্যান্ড নেম দেওয়া হয়েছে কোভিফোর।

পরবর্তী ব্যাচের রেমডেসিভির কলকাতা, ভুপাল, ইন্দোর, গোয়া, কোচি, রাঁচি, বিজয়ওয়াড়া, ভুবনেশ্বর, ত্রিবান্দ্রাম, লখনউ, পাটনায় পাঠানো হবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

রিপোর্ট মোতাবেক, একজন করোনা আক্রান্তকে সুস্থ করে তুলতে কমপক্ষে ৬ শিশি রেমডেসিভির প্রয়োজন হবে। হেটেরো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেমডেসিভিরের ১০০ মিলিগ্রামের শিশির দাম পড়বে ৫ হাজার ৪০০ টাকা। যদিও আরেক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা সিপলা জানিয়েছিল, ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকার কম হবে। তবে হেটেরো গ্রুপের এমডি ভামসি কৃষ্ণা বান্দি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, এই ওষুধ কোনও দোকানে পাওয়া যাবে না। একমাত্র হাসপাতালে বা সরকারিভাবেই এই ওষুধ মিলবে।

রেমডেসিভিরের জেনেরিক ভার্সন তৈরির জন্য হেটেরো ও সিপলাকে অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। তবে এই ওষুধ শুধুমাত্র করোনা আক্রান্ত সংকটজনক রোগীদের ওপরই প্রয়োগ করা যাবে।

উল্লেখ্য, ভারতে এখনও পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ১০৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৮৯৪ জনের। তবে আশার কথা, ২ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৯৭ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অ্যাকটিভ কেস ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫১৪টি। দেশে করোনায় এখনও পর্যন্ত যতজনের মৃত্যু হয়েছে তার ৮০ শতাংশ মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশের।