নেত্রীর নির্দেশেও দল গড়েননি ওঁরা ৫ জন

464

চাঁদকুমার বড়াল,  কোচবিহার : করোনা মোকাবিলায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কোচবিহারে পাঁচজনকে একটি দল হিসেবে মিলিতভাবে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, পার্থপ্রতিম রায়, উদয়ন গুহ, ও মিহির গোস্বামীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কোথাওই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরে প্রশ্ন উঠেছে। করোনা পরিস্থিতিতেও তৃণমূল কোচবিহারে গোষ্ঠীকোন্দল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বলে রাজনৈতিক মহলর ধারণা। তৃণমূল অবশ্য বিষয়টি মানতে চায়নি।

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দীর্ঘদিন কোচবিহারে দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। সেই সময় তিনি গোটা জেলা চষে বেড়াতেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁকে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নাটাবাড়িতেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সকাল হলেই তিনি নাটাবাড়ি কেন্দ্রের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ছেন। শেষ কবে তিনি জেলা পার্টি অফিস বা জেলার কোনও কর্মসূচিতে গিয়েছেন তা কিন্তু কেউই সেভাবে বলতে পারছেন না। অন্যদিকে, লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের বর্তমান জেলা কার্যনির্বাহী সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়কে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে চষে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, দলই তাঁকে এই বিধানসভা কেন্দ্র দেখতে বলেছে। কারণ এখানে তাঁদের কোনও বিধায়ক নেই। পাশাপাশি, পার্থবাবু সব সময় দলের জেলা সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের সঙ্গে থাকছেন। তা সে সাংবাদিক সম্মেলনই হোক বা অন্য কোনও কর্মসূচি। দলের জেলা সভাপতি বিনয়বাবু প্রতিটি কর্মসূচি পার্থবাবুকে সঙ্গে নিয়ে করছেন। রাজ্যের নির্দেশে তিনি দলের জেলা কোঅর্ডিনেটরকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন বলে জানান। অন্যদিকে, কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে এখন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাঁর নিজের কেন্দ্রেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। মিহিরবাবু অবশ্য বলেন, আমি ত্রাণ দিয়ে ফেসবুকে ছবি দিই না। নিজের মতো করে সাহায্য করি। ফেসবুকের কথা বলে তিনি কাকে কটাক্ষ করলেন তা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহও এখন জেলা কার্যালয়ে সেভাবে আসেন না। তিনি দিনহাটা থেকেই কাজ করছেন বলে জানান। তাঁর কথায়, করোনার জেরে এখন কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। তবে সবার সঙ্গেই সবার যোগাযোগ রয়েছে। আর তাই দল ঐকবদ্ধ আছে।

- Advertisement -

তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী  বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, সবে তো পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওযা হল। নিজেরা আলোচনা করেছি। এর মধ্যে বসে কর্মসূচি ঠিক করা হবে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, জেলা সভাপতি বৈঠকে ডাকলেই যাব। আমি আমার নাটাবাড়ি বিধানসভার প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরছি। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছি। কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কি না, সবাই ঠিকমতো র‌্যাশন পাচ্ছেন কি না তা দেখার পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে ১০০ দিনের কাজ পান তা দেখছি। পার্থপ্রতিম রায় বলেন, সমস্ত বিধায়কের দাযিত্ব রয়েছে। তাঁরা নিজেদের এলাকায় কাজ করছেন। সবার সঙ্গেই সবার যোগাযোগ রয়েছে। উদয়ন গুহ বলেন, লকডাউনের জন্য সবাই একত্রিত হওযা যায়নি। দল ঐক্যবদ্ধই রয়েছে। মিহির গোস্বামী বলেন, সবার সঙ্গে সবার যোগাযোগ রয়েছে। নিজের ক্ষমতায় যতটা পারছি মানুষকে সাহায্য করছি।