পাঁচ বছরের অলির গানে মাতোয়ারা বিশ্ব

427

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ, ১৫ জুলাই : ইউটিউবে ইতিমধ্যেই গানের ভিডিয়োর ভিউ-এর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ কোটি ১০ লক্ষ। হিট ১৬ লাখেরও বেশি। দেশ থেকে দেশান্তরে তার গান নিয়ে মাতোয়ারা সকলে। এক গানেই কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে ফেলেছে রায়গঞ্জের তুলসীপাড়ার বাসিন্দা সম্বৃদ্ধি কুণ্ডু। পাঁচ বছরের ওই শিশুকে সবাই অলি নামেই চেনে। তবে এত কাণ্ডকারখানা নিয়ে মোটেই তার কোনো মাথাব্যথা নেই। বরং খুদে শিল্পীর চোখে মুখে এখনও শিশুসুলভ দুষ্টুমি। সেই দুষ্টমি এবং সুরের জাদুতে মাত নেটিজেনরা।

মাত্র এক সপ্তাহেই অলির গান শুনে ফেলেন সারা পৃথিবীর ২ কোটিরও বেশি মানুষ। খেলাচ্ছলে অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া সাংহাই ছবির জনপ্রিয় গান দুয়া গাইতে গাইতেই বিশ্ববাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছে রায়গঞ্জের এই খুদে। অলির গানে রীতিমতো মুগ্ধ অরিজিৎ সিং, এমনকি সুরকার শেখরও। অরিজিৎ সিং তাঁর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আই ক্যান নট বিলিভ। শেখর লিখেছেন, কে এই শিশু? দয়া করে আমায় কেউ তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান। আমি ওর সঙ্গে দেখা করব। আমি ওকে জড়িয়ে ধরতে চাই। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অলির গানে মেতেছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, আমেরিকা সহ গোটা বিশ্ব। সেইসঙ্গে ছোট্ট অলির প্রশংসায় লক্ষ লক্ষ কমেন্ট দিয়ে চলেছেন সকলেই।

এ পর্যন্ত অলির চারটি গান রিলিজ হয়েছে। কিন্তু বিশাল-শেখরের কম্পোজিশনে অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া এই যো ভেজি থি দুয়া অবলীলায় গেয়ে ফেলেছে সে। ৩ জুন অলির প্রথম গানটি রিলিজ হয়। গানটি ছিল পাপ্পা মেরি পাপ্পা। সেই গানটি শোনেন ৪৫ লক্ষ মানুষ। দ্বিতীয় গান তুঝে কিতনা চাহনে লাগে রিলিজ হয় ১২ জুন। সেই গানটি শোনেন ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৯৩ জন। ২৪ জুন রিলিজ হয় অলির তৃতীয় গান গিভ মি সাম সানসাইন। সেবার ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০৪ জন মানুষের মন জয় করে নেয় ছোট্ট অলি। ৫ জুলাই আসে যো ভেজি থি দুযা গানটি। আর তাতেই সে রাতারাতি সেলেব্রিটির তকমা পেয়েছে।

রায়গঞ্জের বিশিষ্ট সাউন্ড রেকর্ডিস্ট শীর্ষেন্দু বাগচির স্টুডিয়োতে অরিজিৎ সিংয়ের এই জনপ্রিয় দুয়া গানটি রেকর্ড করে অলি। প্রথাগতভাবে এখনও গান শেখা শুরু না করলেও মা আলভা মিত্রের তত্ত্বাবধানেই অল্প বয়স থেকে তার গানে হাতেখড়ি। মা ক্ল্যাসিকাল গানে পারদর্শী। পরিবারের দাবি, মাত্র আড়াই বছর বয়সে মায়ের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ইউটিউব খুলে ফেলে অলি। ইউটিউব চালিয়ে গান শুনতে শুরু করে সে। একটা গান তিন থেকে চারবার শুনলেই আয়ত্ত করে ফেলে এই শিশু। বাবা শোভন কুণ্ডু ব্যবসায়ী। মেযে এই সাফল্যে খুশি তিনিও। এবছরই রায়গঞ্জের সেন্ট জেভিযার্স স্কুলে ভরতি হয়েছে অলি।

মা আলভা মিত্র বলেন, খেলার ছলে গান করতে করতে তা যে এত বেশি ভাইরাল হবে তা ধারণা করতে পারিনি। তবে সবাই এত ভালোবাসছে, কমেন্ট করছে সেজন্য ভীষণ ভালো লাগছে। আগামীতে ওর সাফল্য বা এই জনপ্রিয়তা বজায় রাখার দাযিত্ব আমার। কিছুটা ভয়ও লাগছে। গানের তালিম নেওয়ার পাশাপাশি অলি পড়াশোনাও চালিয়ে যাবে বলে জানান আলভাদেবী। তিনি বলেন, অলির বয়স যখন তিন বছর তখন ওর গাওয়া একটি গান হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে দিয়েছিলাম। সেই গান শুনে আমার এক বান্ধবী দেবলীনা বিশ্বাস শীর্ষেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ করে। অলির গান রেকর্ডিংয়ের জন্যও বলে সে। কিন্তু সেবার হয়ে ওঠেনি। এরপর এবছর প্রথম গান রেকর্ড করা হয় অলির। স্টুডিয়োর কর্ণধার শীর্ষেন্দু বাগচি জানান, অলির গানটা এতটা যে ভাইরাল হবে ভাবতে পারিনি। তবে ভীষণ ভালো লাগছে। আমরা প্রত্যেকেই খুশি।