দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে লাটে উঠল অনলাইন শপিং ব্যবসা

633

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লকডাউনের জেরে ব্যবসা কার্যত লাটে উঠতে বসেছে ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজন, বিগ বাস্কেট, মিল্ক বাস্কেট, গ্রোফার্স সহ প্রায় সমস্ত অনলাইন পণ্য পরিষেবা সংস্থার। মঙ্গলবার দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লকডাউন চলাকালীন দোকানবাজার কতটা খোলা থাকবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটার আগে নতুন বিপদ সামনে এল বুধবার।

অনলাইন পরিষেবা সংস্থাগুলো জানিয়ে দিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে আর পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফ্লিপকার্ট, বিগ বাস্কেট ইত্যাদি সংস্থা পুরোপুরি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা শুধু বলেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজ শুরু হবে। অ্যামাজন নতুন করে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পুরোনো অনেক অর্ডার শেষ মুহূর্তে বাতিলও করেছে তারা। ফলে বেশ কিছু ক্রেতাকে বিপাকে পড়তে হয়েছে।

- Advertisement -

পরিষেবা বন্ধ রাখার পিছনে অনলাইন সংস্থাগুলি একাধিক কারণ দেখিয়েছে। প্রথমত, চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়ার পরিকাঠামো না থাকা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার ফলে ১৩০ কোটি মানুষ কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রয়োজন মেটাতে নতুন অনেকেই অনলাইনে জিনিসপত্র কেনাকাটা করছেন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জিনিস কিনতে চাইছেন। এই সব কারণে সংস্থাগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, যা সামাল দেওয়ার পরিকাঠামো তাদের নেই। এছাড়া ডেলিভারি বয়রা রাস্তায় বেরোলে তাঁদের পুলিশি হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। ফলে তাঁরা বাড়ি বাড়ি পণ্য সরবরাহ করতে চাইছেন না।

অনলাইন শপিং সংস্থা বিগ বাস্কেটের এক কর্তা অভিযোগ করছেন, জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে কেন্দ্রীয সরকার স্পষ্ট নির্দেশিকা দিলেও, স্থানীয় প্রশাসনের বাধায় আমরা সেই কাজ চালু রাখতে পারছি না। মিল্ক বাস্কেট সংস্থা ইতিমধ্যে গুরগাঁও, নয়ডা, হায়দরাবাদ সহ দেশের বিভিন্ন শহরে তাদের পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। সংস্থার সিইও অনন্ত গোয়ের বক্তব্য, আমাদের কর্মীদের মারধর করছে পুলিশ। তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্রেতার হাতে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারদাবার তুলে দেওয়া যাচ্ছে না। সংস্থার বদনাম হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিষেবা বন্ধ রাখা ছাড়া কোনও উপায় দেখছি না। প্রশাসনের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে। অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতাদেরও বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়ে।

গ্রোফার্স সংস্থার প্রধান অলবিন্দ্র ধিন্দসা বলেন, আমাদের ট্রাক আটকে দেওয়া হচ্ছে। শোরুমে পণ্য রাখা বা বের করা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় ডেলিভারি বয়দের আটকে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জিনিস ঠিক সময়ে পৌঁছে দিতে পারছি না। অর্ডার বাতিলও করতে হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। এই অবস্থায় কীভাবে কাজ হবে? স্ন্যাপডিল, লিঙ্কপোস্টসহ অনেক সংস্থার বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী তো বলেছিলেন, জরুরি পণ্য পরিষেবা বন্ধ করা হবে না। কিন্তু বাস্তব অবস্থাটা একেবারে উলটো। আগামী কয়েকদিনে ছবিটা বদলাবে কিনা, সেটাই দেখার।