চাঁচলের ভবানীপুর গ্রামের প্রায় এক হাজার বাসিন্দা জলবন্দি

394

মুরতুজ আলম, সামসী: লাগাতার বৃষ্টিতে মহানন্দা নদীর জল ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে জলবন্দি চাঁচল-১ ব্লকের খরবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দারা। কার্যত বন্যার রূপ নিয়েছে গোটা এলাকা।

নদীর জল ক্রমশ বাড়তে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দারা। জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগও। একদিকে করোনা আতঙ্ক, অপরদিকে বন্যার জলে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট।

- Advertisement -

গ্রামের বাসিন্দা দোস্ত মহম্মদ বলেন, কয়েকদিন ধরে জলবন্দি থাকায় গ্রামবাসীদের মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সমস্যা দেখা দিয়েছে পানীয়জলেরও। ইতিমধ্যেই অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজাখুঁজি শুরু করছেন। যদিও খবর পেয়ে ভবানীপুর গ্রামে যান জেলা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন। মঙ্গলবার তিনি সেখানে গিয়ে আপাতত চার কুইন্টাল চাল বিলি করেন। রফিকুলবাবু বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণের জন্য চাঁচল-১ ব্লক প্রশাসন বলা হয়েছে।

গৃহবন্দি ওই গ্রামের বাসিন্দারা নিত্য প্রয়োজনে নদীপথ দিয়েই চাঁচল ও পার্শ্ববর্তী জেলা উত্তর দিনাজপুর যান হাট-বাজার করার জন্য। নৌকা ছাড়া কোনও গতি নেই, তাই গ্রামবাসীরা সকলে মিলে একটা নৌকা ভাড়া করে জল পেরিয়ে হাট-বাজার যাচ্ছেন। লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই গ্রামবাসীরা নৌকায় পারাপার করছেন। ফলে নৌকাডুবির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত এক বছর আগে চাঁচলের জগন্নাথপুর ঘাটে নৌকাডুবির ঘটনার পরেও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। সেবার বহু মানুষ মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌকাতে যাতায়াত করছেন পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা। গ্রামবাসীরা পাশের খিদিরপুর ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। আগে ঘাটটি চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির আওতায় ছিল। বর্তমানে ডাক দেওয়া-নেওয়া বন্ধ রয়েছে। তাই গ্রামবাসীরা নিজেরাই নৌকা ভাড়া করে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গ্রামের গৃহবধূ নীলিমা বিবি জানান, জল বাড়ছে, এই আতঙ্কে আমরা নদী পার হচ্ছি না। এখন হঠাৎ কোনও ব‍্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে সঠিক সময়ে নৌকাও পাওয়া যায় না। তাছাড়া প্রসূতিদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। ভরসা মাত্র একটি নৌকা। প্রশাসনের নিকট আরও কয়েকটি নৌকার দাবি জানান তিনি।

জেলা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, ভবানীপুর গ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার চলে বারো মাস। মহানন্দা নদীর ওপর খিদিরপুর-ভবানীপুর ঘাটে বাঁশের বা পাকা কোনও সেতু না থাকায় খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবানীপুর গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা নৌকা। বিডিও ও এসডিওর সঙ্গে আলোচনা করেই খুব শীঘ্রই নদী পারাপারের জন্য কয়েকটি নৌকা, লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি সেচ ও সমবায় দপ্তরের কর্মাধ‍্যক্ষ শাহজাহান আলম বলেন, ভবানীপুর গ্রামবাসীদের যাতায়াতের ভরসা একমাত্র নৌকাই। বিশেষত বর্ষাকালে নদীতে যখন প্রচুর জল থাকে তখন সমস্যা আরও তীব্রতর হয়। তবুও নিরুপায় হয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীদের। যাত্রীদের সুরক্ষার জন‍্য ও অতিরিক্ত নৌকার-ব‍্যবস্থার জন‍্য চাঁচলের মহকুমা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চাঁচল-১ ব্লকের বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য বলেন, মঙ্গলবার ভবানীপুর গ্রামের সমস্যা নিয়ে খরবা পঞ্চায়েত প্রশাসনের সঙ্গে এক বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সুষ্ঠু আলোচনা হয়েছে। গ্রামবাসীদের যাতে কোনও ধরণের সমস্যা না হয় তা পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন সম্মিলিতভাবে দেখবে। পযার্প্ত লাইফ জ‍্যাকেট, নৌকা, ত্রাণ-সব কিছুরই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। জল বাড়লেই গ্রামবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।