বৃষ্টি হতেই বন্দি নদীবেষ্টিত ৩টি চা বাগান

190

বীরপাড়া: চিত্রটা পালটাল না এবছরও। নদীতে সেতু নেই। তাই ভুটান পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে নদীখাত বেয়ে জলরাশি নেমে আসতেই বন্দি হয়ে পড়ল বীরপাড়া থানার ভুটান সীমান্তবর্তী জয়বীরপাড়া, ঢেকলাপাড়া ও বান্দাপানি চা বাগানের হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ এলাকার পাগলি ও ডিমডিমা নদীতে জল বাড়তে থাকে। ফলে নদী পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এদিন সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা নাগাদ খবর লেখা পর্যন্ত নদীর দুই তীরে আটকে রয়েছে সাধারণ মানুষ। এদিন ছোট গাড়ি এমনকি ট্রাকগুলিও আটকে পড়ে নদীর তীরে।

জয়বীরপাড়া ও নাংডালা চা বাগানের মাঝ বরাবর প্রবাহিত ডিমডিমা নদীতে সেতু নেই। ওই নদী পেরিয়েই যেতে হয় ঢেকলাপাড়া ও বান্দাপানি চা বাগানে। বান্দাপানি চা বাগানে ঢোকার মুখে চারো নদীর একটি শাখার ওপর সম্প্রতি সেতু তৈরি হলেও ওই চা বাগানের কালিবাড়ি ও নেপালি লাইনের কাছে চারো নদীর আরেকটি শাখার ওপর সেতু তৈরি হয়নি। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারাও এদিন আটকে পড়েন।

- Advertisement -

ঢেকলাপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা ব্যাংককর্মী স্বপন সমজার সন্ধ্যায় বলেন, ‘বীরপাড়া থেকে ফিরছিলাম। বিকেল তিনটা থেকে নদীর তীরে আটকে রয়েছি। ঘরে ফিরতে পারব কি না জানি না।’ জয়বীরপাড়া চা বাগান এলাকার বাসিন্দা টেম্পু ওরাওঁ বলেন, ‘সারাজীবন শুধু প্রতিশ্রুতিই জুটল। সেতু তৈরি হল না। বৃষ্টি হলে যত প্রয়োজনই হোক না কেন, বন্দি হয়েই থাকতে হয় আমাদের। রুজির সংস্থানেও বের হওয়া সম্ভব হয় না।’ তবে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্যা জশিন্তা লাকড়া বলেন, ‘ওই এলাকায় একটি সেতু তৈরি করা হয়েছে। আরও দু’টি সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এগুলি তৈরিতে কোটি কোটি টাকা প্রয়োজন।’