রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিন কাটছে বানভাসিদের

213

মালদা : বিপদসীমা অতিক্রম করেছে মহানন্দার জলস্তর। ইংরেজবাজার শহরের মহানন্দা তীরবর্তী অসংরক্ষিত এলাকা জলের তলায়। ইতিমধ্যে কয়েকশো পরিবার বানভাসি। তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন মালদা শহরের বাঁধ রোড সহ ডিএসএ ময়দানের পাশের ফাঁকা মাঠে। তবে রোদ-বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বানভাসিদের।

প্রায় প্রতিবছর বন্যায় শহরের অসংরক্ষিত এলাকা জলের তলায় চলে যায়। সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলি মূলত আশ্রয় নেন ভাড়াবাড়ি ও বিভিন্ন স্কুলে। চলতি বছর করোনা আতঙ্কে বাড়িভাড়া দিচ্ছেন না শহরের বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষে এখনও স্কুলগুলিতে ত্রাণ শিবির করা হয়নি। এমন অবস্থায় চরম সমস্যায় পড়েছেন শহরের বানভাসি পরিবারগুলি। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচরের বাসিন্দা যোগেশ্রী মণ্ডল বলেন, ‘প্রায় প্রতিবছর মহানন্দার জলে আমাদের বাড়ি ডুবে যায়। শহরের বিভিন্ন বাড়ি ভাড়া করে আশ্রয় নিই। প্রায় চার মাস ভাড়াবাড়িতে থাকি। কিন্তু এই বছর করোনা আবহে বাড়িভাড়া পাচ্ছি না। তাই বাঁধের পাশে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে পরিবার নিয়ে রয়েছি। বৃষ্টির জলে ভিজতে হচ্ছে, গরমেও সমস্যা হচ্ছে আমার ছেলেমেয়ের। কাউন্সিলার একটি করে ত্রিপল দিয়েছে। সেটি দিয়ে তাঁবু খাটিয়ে রয়েছি। স্কুলগুলিতে ত্রাণ শিবির করলে আমরা উপকৃত হতাম।’

- Advertisement -

প্রায় প্রতিবছর মহানন্দার জলে ইংরেজবাজার পুরসভার ৮, ৯, ১২ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নদীর তীরবর্তী বস্তিগুলি ডুবে যায়। সেখানকার বাসিন্দারা আশ্রয় নেন সরকারি ত্রাণ শিবিরে। যাঁদের একটু অবস্থা ভালো, তাঁরা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। ত্রাণ শিবির খোলায় প্রতিবছর শহরের সরকারি স্কুল ভবনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি পঠনপাঠনেও ব্যাঘাত ঘটে। স্কুলের ইলেক্ট্রিক বিল দেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ রাজি হচ্ছেন না তাঁদের ভবনগুলিতে ত্রাণ শিবির খোলার। এমন পরিস্থিতিতে ইংরেজবাজার পুরসভার নিজস্ব ফ্লাড সেন্টারের দাবি উঠেছে। ফ্লাড সেন্টার না থাকায় সমস্যার কথা স্বীকার করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। এবিষয়ে পুরসভার প্রশাসক কমিটির সদস্য দুলাল সরকার বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা নতুন একটি ফ্লাড সেন্টার তৈরির করার প্রস্তাব দিয়েছি সরকারকে। আগামীতে তা তৈরি হলে বানভাসি মানুষ উপকৃত হবেন।’

মালদা সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বছর উত্তরবঙ্গ জুড়ে অগ্রিম বৃষ্টিপাত হওয়ায় মহানন্দা নদীর জল বাড়তে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মালদায় অগ্রিম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে মহানন্দার জলস্তর। অন্যান্য বছর এই সময় মহানন্দার জল অনেকটাই স্বাভাবিক থাকে। সেচ দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ছটায় মহানন্দার জলস্তর ছিল ২১.৪২ মিটার। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪২ সেন্টিমিটার বেশি। এই জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ইংরেজবাজারের অসংরক্ষিত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চরম বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটারের নীচে রয়েছে মহানন্দার জলস্তর। পুরসভার ৮, ৯ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নদী তীরবর্তী বেশকিছু এলাকা জলের তলায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ পরিবার বানভাসি। করোনা আবহে স্কুলগুলিতে ত্রাণ শিবির খোলার অনুমতি না মেলায় বাঁধের পাশে তাঁবু খাটিয়ে রয়েছে বানভাসি পরিবারগুলি।

স্থানীয় বিদায়ি কাউন্সিলারের তরফে বানভাসিদের একটি করে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। তবে একটি ত্রিপলে ঠিকমতো তাঁবু খাটাতে না পারায় বৃষ্টির জলে ভিজছে বানভাসি পরিবারগুলির আসবাবপত্র। কোনওরকমে তাঁবুতে পরিবার নিয়ে মাথা গুঁজে রয়েছেন তাঁরা। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ি কাউন্সিলার প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘এবছর আগাম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদায়। বহু পরিবার ইতিমধ্যে বানভাসি। যতটুকু পারছি বানভাসি পরিবারগুলিকে সাহায্য করছি। সব পরিবারকে একটি ত্রিপল দেওয়া হয়েছে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বানভাসি পরিবারপিছু শীঘ্রই ত্রিপল সহ অন্যান্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁদের থাকার জন্য স্কুল ভবনগুলি না পেলে ডিএসএ ময়দানের পাশে ফাঁকা মাঠে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

তথ্য ও ছবি- হরষিত সিংহ