জলঢাকা নদী গিলছে কৃষিজমি, চিন্তিত এলাকার মানুষ

শ্রীবাস মণ্ডল, ফুলবাড়ি: মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের খারিজা ক্ষেতি এলাকায় জলঢাকা নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি কৃষিজমি। চলতি বর্ষায় এলাকার কয়েকশো বিঘা আবাদি কৃষিজমি জলঢাকা নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নদী ভাঙন নিয়ে চিন্তিত এলাকার মানুষ। তাঁরা চাইছেন, প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে এলাকার অনেক পরিবার কৃষিজমিহীন হয়ে পড়বে।

এলাকাবাসীরা জানান, বাঁধের বাইরে কয়েক দশক আগের জলঢাকা নদীর পুরানো চর এলাকাবাসীর ভরসা। এলাকার প্রায় ১০০ পরিবার এখনকার কৃষিজমির উপর নির্ভরশীল। গত বছরও জলঢাকা নদীর ভাঙনে কিছু কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এলাকার নদী ভাঙনের বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। চলতি বর্ষায় এলাকায় নদীর ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ভাঙছে কৃষিজমি। আর এই ভাঙন চলতে থাকায় চিন্তিত এলাকার মানুষ।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা আবেদ আলি, হোসেন আলি, আইজুল মিঞা প্রমুখ জানান, এলাকার প্রায় ১০০টি পরিবার নদীর এই পুরানো চরের কৃষিজমির উপর নির্ভরশীল। এখানকার কৃষিজমি আলু ও শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। তাছাড়াও এখানে প্রচুর পাট ও কলার চাষ হয়। বর্তমানে আবাদি পাট খেত ও কলাবাগান নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। চলতি বছরে নদী ভাঙনের ব্যাপকতা দেখে অনেকেই চিন্তায় জমির পাট কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

তাঁরা আরও জানান, এলাকার নদী ভাঙনের বিষয়টি গতবছর প্রশাসনকে জানানো হয়। কিন্তু ভাঙন রোধের বিষয়ে কোনও রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আইজুল মিঞা বলেন, বর্তমানে যেভাবে কৃষি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে তা চলতে থাকলে এলাকার অনেক পরিবার কৃষিজমিহীন হয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন। তাই কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত।

মাথাভাঙ্গা মহকুমা সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খারিজা ক্ষেতিতে যে কৃষিজমি ভাঙছে, তা পুরানো চর হলেও বাঁধের বাইরের অরক্ষিত জমি। তাই এই মুহূর্তে ভাঙন রোধের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারছে না সেচ দপ্তর।ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধনঞ্জয় অধিকারী বলেন, খারিজা ক্ষেতি এলাকায় নদী ভাঙনের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।