জলমগ্ন মেজবিল রাসমেলার মাঠ, মাছ ধরছেন স্থানীয়রা

293

পলাশবাড়ি: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের ঐতিহ্যবাহী মেজবিল রাসমেলার মাঠে মাছ ধরছেন স্থানীয়রা। চলতি বর্ষায় এই মাঠের জল কোনওভাবেই কমছে না। জলমগ্ন মাঠে বন্ধ রয়েছে খেলাধুলো। পায়চারী করতে পারছেন না প্রবীণ বাসিন্দারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মীয়মাণ মহাসড়কের কারণে মাঠের একাংশে দীর্ঘদিন ধরেই বালি ও মাটি স্তূপাকার হয়ে রয়েছে। প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও মাঠের জল নিষ্কাশন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

- Advertisement -

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পাশেই মেজবিলের মাঠে প্রতি বছর রাসমেলা হয়। এই মাঠের পাশে রয়েছে ১৭টি বাড়ি। তবে গোটা এলাকার যুবকরা এই মাঠে নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট খেলেন। প্রবীণ বাসিন্দারা সকাল ও সন্ধ্যায় পায়চারী করেন। কিন্তু এবছর বর্ষার শুরু থেকেই মাঠে দখল নিয়েছে জল। কম-বেশি বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে এই মাঠ। লাগাতার বৃষ্টিতে মাঠের মধ্যে দেখা যাচ্ছে মাছ। তাই খেলাধুলো বন্ধ থাকায় এখন ছোট ছোট জাল দিয়ে মেজবিলের মাঠে মাছ ধরছেন বাসিন্দারা। তবে মাছ ধরার আনন্দের থেকে খেলা বন্ধ থাকায় বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির আগে মহাসড়কের কাজের জন্য মেজবিল মাঠের পাশে বালি ও মাটি ফেলানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মাটির জন্য মাঠ থেকে জল বয়ে যাওয়ার গতিপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেজন্য এবার মাঠের জল অন্যত্র বয়ে যেতে পারছে না।

স্থানীয়রা মাঠে জাল পেতে মাঝে মধ্যেই মাছ ধরেন। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকায় মাঠে এবার মাছ দেখা যাচ্ছে। ক্রীড়াপ্রেমী স্থানীয় প্রণব কুমার সেন বলেন, ‘এলাকার কয়েকশো যুবক নিয়মিত এই মাঠে খেলাধুলো করতেন। এখন সব বন্ধ। এখানকার যুবকদের বাধ্য হয়ে পলাশবাড়ির মাঠে খেলতে যেতে হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন কেন পদক্ষেপ করছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সরোদিনি বর্মন বলেন, ‘মেজবিল মাঠের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ। মহাসড়কের কাজের জন্য ওখানে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কিছু করা যাচ্ছে না।’

এ প্রসঙ্গে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য আরও অনেক জায়গায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মেজবিলের ওখানে কাজ করা হবে।’