এক বছরে চারবার বন্যা, ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিলেন গ্রামবাসী

261

রায়গঞ্জ: এক বছরে চারবার ফ্লাড রিলিফ সেন্টারে আসতে হল বাহিন অঞ্চলের গ্রামবাসীদের। রবিবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বাহিন অঞ্চলের ট্যাগরা, ভিটিয়ার, অনন্তপুর, দুপদুয়ার গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করেছে। অনেক বাড়িতে এক কোমর জল হয়ে যাওয়ায় সোমবার তারা ভিটিয়ার ফ্লাড রিলিফ সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছে। পাশাপাশি বিঘার পর বিঘা ফসল জলে ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের একরাশ অভিযোগ। সরকারি বন্টন থাকা সত্বেও ত্রাণ সামগ্রী, ত্রিপল বিলি করা হচ্ছে না।

গ্রামবাসী আবেদ আলি বলেন, এক বছরে চারবার বন্যা। ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিঘার পর বিঘা ফসল জলে ডুবে আছে। কোনো ফসল আর বাঁচানো যাবে না। এখন প্রয়োজন সরকারি সাহায্য। তা না হলে মাঠে মারা যাবো। তিনি জানান, পরিবার নিয়ে বারবার ফ্লাড সেন্টারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। সরকার থেকে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই গ্রামে আর থাকা যাবে না। গ্রামবাসী মজেমা খাতুন বলেন, গত তিনদিন আগে অল্প জল ঢুকেছিল গ্রামে। সোমবার ভোর থেকে বাড়িতে এক কোমর জল হয়ে যায়। তাই সকালে ফ্লাড সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছি। এই বছর চারবার ফ্লাড সেন্টারে আসতে হল। জানিনা আমাদের দু:খ কবে দূর হবে। অসহায় অবস্থার মধ্যে থাকলেও পঞ্চায়েত থেকে কোনও ত্রান মিলছে না। গ্রামবাসী আনিসুর রহমান বলেন, রবিবার রাত থেকে জল ঢুকে গিয়েছে। সারারাত বাচ্চাদের নিয়ে জেগে ছিলাম। সকালে ফ্লাড সেন্টারে এসেছি। জানি না কতদিন থাকতে হবে। এই বছরটা ফ্লাড সেন্টারেই কাটল! মহম্মদ হোসেন নামে একজন বলেন, একদিকে করোনা আবহ, অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টি। ফলে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। পঞ্চায়েত থেকে কোনও ত্রাণ পাচ্ছেন না গ্রামবাসীরা। অথচ সরকারি বন্টন এসেছে। গ্রামের মানুষ সব হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

- Advertisement -

লাগাতার বৃষ্টিপাতের ফলে রায়গঞ্জ ব্লকের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। একের পর এক গ্রামে ঢুকেছে নাগর ও কুলিক নদীর জল। বাহিনের ট্যাংড়া সেতুর উপর দিয়েও জল বইছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রায়গঞ্জের বাহিন, গৌরী, জগদীশপুর, ভাটোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকশো পরিবার। হেমতাবাদ ব্লকের সমাসপুর, বাজিতপুর সহ একাধিক গ্রাম ভেসে গিয়েছে। গ্রামবাসীরা নিকটবর্তী স্কুল বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। হেমতাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখর রায় জানান, গ্রামবাসীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্কুল বাড়িতে রাখা হয়েছে। তাদের সরকারি খাদ্য দেওয়া হচ্ছে।

রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতি ফ্লাড রিলিফ সেন্টারে গ্রামবাসীদের থাকার ব্যবস্থা করেছে। বন্যার আশঙ্কা রয়েছেন অনন্তপুর, মাধবপুর, ছিট মাধবপুর, ভিটিয়ার গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ। রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মানস ঘোষ বলেন, নদীর পার্শ্ববর্তী সমস্ত গ্রামে জল ঢুকেছে। আপাতত ভিটিয়ার ফ্লাড রিলিফ সেন্টারে রাখা হয়েছে। আশা রাখছি আজ থেকে জল নামতে শুরু করবে। আমরা গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিতে ৪০ টি করে ত্রিপল দিয়েছি।