মাঠেই নষ্ট হচ্ছে ফুল, বিপাকে চাষিরা

অরিন্দম চক্রবর্তী, কামাখ্যাগুড়ি : দীর্ঘ লকডাউনের জেরে সমস্যায় পড়েছেন কুমারগ্রাম ব্লকের ফুলচাষিরা। বিবাহ, অন্নপ্রাশন সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়াও রাজনৈতিক, অন্য সামাজিক অনুষ্ঠানে রঙবেরঙের ফুলের ব্যবহার হয়। কিন্তু লকডাউন শুরুর পর থেকে যে কোনও ধরনের অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ফুলের ব্যবসা বন্ধ।

কামাখ্যাগুড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চড়কতলার বাসিন্দা রাজেন্দ্র বিশ্বাস সারা বছর ধরেই বিভিন্ন মরশুমি ফুলের চাষ করেন। তিনি ফুল গাছের চারাও বিক্রি করেন। আলিপুরদুয়ার জেলার অনেক ফুল ব্যবসায়ী তাঁর কাছ থেকে ফুল কিনে নিয়ে যান। বিভিন্ন ধরনের মরশুমি ফুলের চাষ করে তাঁর সংসার চলে। রাজেন্দ্রবাবু জানান, দুমাস ধরে লকডাউন চলছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে জানি না। পুরোনো র‌্যাশন কার্ড থাকায় র‌্যাশনও পাচ্ছি না। দুই বিঘা জমির ফুল ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বৈশাখ মাসে প্রচুর বিবাহ, রবীন্দ্রজয়ন্তী সহ নানা অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে প্রায় আধবিঘা জমিতে গ্লাডিওলাস লাগিয়েছিলাম। এছাড়া চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, ক্যালেন্ডুলা, রজনীগন্ধা ইত্যাদি ফুলের চাষও করেছিলাম। প্রচুর গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাকি ফুল পরিণত অবস্থায় জমিতে পড়ে রয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রাজেন্দ্রবাবু জানান, আলিপুরদুয়ারের একজন, কামাখ্যাগুড়ির তিনজন এবং বারবিশার দুইজন ফুল ব্যবসায়ী তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত ফুল নিয়ে যেতেন। কিন্তু লকডাউনের জেরে ফুলের বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ। সরকারিভাবে সাহায্য করলে উপকৃত হবেন।

- Advertisement -

খোয়ারডাঙ্গা এলাকার ফুলচাষি দুলাল রায় বলেন, ফুলের পাশাপাশি কিছু সবজিরও চাষ করেছিলাম বলে কোনওরকমে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু ফুল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ। আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই অপেক্ষায় আছি। কামাখ্যাগুড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় পাল বলেন, ১৮ মে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে র‌্যাশন কার্ড নিয়ে শিবির হবে। সবাই যাতে র‌্যাশন পান, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দা তথা অধ্যাপক অসিতকান্তি সরকার বলেন, লকডাউনে গ্রিন জোনে অনেক ব্যবসায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সামাজিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বর্জিত থাকায় ফুলচাষিরা সমস্যায় পড়ছেন। প্রশাসনের উচিত এইদিকে নজর দেওয়া।