সামসীতে জমিজটে আটকে ফ্লাইওভারের কাজ

সামসী : সামসী রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় যানজটের দুর্ভোগ এড়াতে কয়েক বছর আগে স্থানীয় সাংসদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগী হয়। কিন্তু সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি মেলেনি। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারকে জমি দিতে অস্বীকার করেন। জমিজটে সেই কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সামসী ইউথস ফেডারেশনের সম্পাদক মোতিউর রহমান বলেন, সামসী রেলস্টেশনের একাধিক উন্নয়নসহ রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য দাবি জানানো হয়েছে উত্তর সীমান্ত রেলের কাটিহারের ডিআরএমকে। তিনি দাবিগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

সামসী সহ উত্তর মালদার বাসিন্দাদের হাজারো সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম সামসী রেলগেটের যানজট সমস্যা। রেলগেটে একবার গেট পড়লে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বাসযাত্রী থেকে শুরু করে পথচারী, সাইকেল, বাইক আরোহী, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, চিকিৎসক, রোগী, অফিস কর্মচারী সহ এলাকার আপামর জনসাধারণকে। বৃহস্পতিবার হাটবার থাকায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে। সামসী রেলগেটের যানজটে নাকাল সামসীসহ গোটা উত্তর মালদার লাখো মানুষ। এনিয়ে সকলের মধ্যেই ক্ষোভ বাড়ছে। তাই রেলগেটের যানজট সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার সব মহল। সামসীর কংগ্রেস নেতা মোশারফ হোসেন বলেন, রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের তরফে হাজারো প্রতিশ্রুতি মিলেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মৌসম নুর উত্তর মালদার সাংসদ থাকাকালীন লোকসভায় একবার সামসী রেলগেটের যানজট সমস্যা নিয়ে বলেছিলেন। রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিও তুলেছিলেন তিনি। মৌসমের কথায় সাড়া দিয়ে রেলমন্ত্রক সামসী রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা মঞ্জুরও করে। কিছুদিন পর রেলের তরফে ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য মাপজোখও হয়। কিন্তু আজও সেই কাজ শুরু হয়নি।

- Advertisement -

রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত জমি জটের কারণেই আটকে রয়েছে সামসী ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ। ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য রেলগেটের দুইপাশে প্রচুর জমি লাগবে। কিন্তু সামসীর বাসিন্দারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে নারাজ। এক বাসিন্দা বলেন, বর্তমান বাজার মূল্যের চারগুণ টাকা পেলে তবেই জমি দিতে কোনও আপত্তি নেই। এদিকে, ফ্লাইওভারের জন্য শতাধিক পাকা বাড়ি ও কয়েকশো দোকানঘর ভাঙা পড়বে। অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়বেন। হারাবেন দোকানঘরও। যার ফলে জমি ছাড়াও ক্ষতিপূরণ বাবদ কয়েশো কোটি টাকা লাগবে। তবুও ফ্লাইওভার নির্মাণের গত তিন বছর আগে রাজ্য সরকার মালদার তৎকালীন জেলা শাসককে জমি অধিগ্রহণের দায়িত্ব দেন। জেলা শাসকের নির্দেশে জমি অধিগ্রহণের দায়িত্বভার পড়ে রতুয়ার বিডিও অর্জুন পালের ওপর। বিডিও অর্জুন পালের তত্ত্বাবধানে রেলগেটের দুই পাশে জমি অধিগ্রহণের জন্য মাপজোখও হয় এবং রাজ্য সরকারের তরফে জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণের চেকও তৈরি হয়। তৎকালীন বিডিও অর্জুন পাল কয়েকজন জমিদাতাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ চেকও বিলি করেন। কিন্তু বাকি জমিদাতারা চেক নিতে হাজির হননি। তাই জমিজটে আজও আটকে রয়েছে সামসী রেলগেটের ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ। যার ফল ভোগ করছেন বাসিন্দারা।

সামসী এগ্রিল হাইস্কুলের সহ শিক্ষক রঞ্জনকুমার দাস বলেন, রেলগেটের যানজট থেকে বাঁচতে ফ্লাইওভার নির্মাণ খুব জরুরি। রেলগেটের যানজটে একবার আটকে পড়লে দীর্ঘসময় আটকে থাকতে হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারেন না অনেকে। অনেকসময় যানজটে আটকে যায় রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সও। ফলে অনেক মুমূর্ষু রোগী যানজটের কবলে পড়ে অকালে মারা যান। সামসীর বাসিন্দা তথা তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মহম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, সামসী রেলগেটের যানজটের বিষয়টি রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের জেলা সভাপতি মৌসম নুরকে পুনরায় বলা হয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সহ সভাপতি অভিষেক সিংহানিয়া বলেন, এতদিন ক্ষমতায় থেকে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেরা সামসী রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে পারেনি। কিন্তু বিজেপি তা করে দেখাবে। খগেন মুর্মু সাংসদ হওয়ার পর পরই বলেছিলেন সামসীতে ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। ইতিমধ্যেই খগেনবাবু লোকসভায় বিষয়টি উত্থাপনও করেছেন। কংগ্রেসের রতুয়া-১ ব্লক সভাপতি সুভাষ মিশ্র বলেন, সামসী রেলগেটের যানজট সমস্যার কথা মাথায় রেখে এখানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা দরকার। সিপিএমের মওদুদ আলমও একই অভিমত পোষণ করেছেন।