কোচবিহার জেলার বিভিন্ন স্কুলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা শিকেয়

292

দেওয়ানহাট : কোচবিহার জেলার স্কুলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বেহাল দশা। জেলার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সমস্ত স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড-ডে মিল প্রকল্প চালু রয়েছে। স্বনির্ভর দলের মহিলারা স্কুল চত্বরেই গ্যাস বা উনুনে মিড-ডে মিলের রান্না করেন। কিন্তু, জেলার বেশিরভাগ স্কুলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা শিকেয় উঠেছে। এর আগে স্কুলগুলিতে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার দেওয়া হলেও সেগুলির বেশিরভাগই মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থায পড়ে রয়েছে, যা প্রযোজনের সময কোনও কাজেই লাগবে না। এই অবস্থায় রান্না চলাকালীন স্কুলে আগুন লেগে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকদের একাংশ। এছাড়া, এই অবস্থায় কী করণীয় সে বিষয়ে স্কুলগুলি সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে। সমগ্র শিক্ষা অভিযানের জেলা প্রকল্প আধিকারিক অবশ্য এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকেই প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ফলে এ নিযে দুপক্ষের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে।

স্কুলে কোনো অগ্নিকাণ্ড হলে তা সামাল দেওযার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে সর্বশিক্ষা অভিযানের টাকায জেলার সমস্ত প্রাথমিক ও হাইস্কুলে দুটি করে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার দেওয়া হয। সে সময সেগুলির এক বছরের মেযাদ ছিল। খোঁজ নিযে জানা গিয়েছে, পরবর্তীতে সর্বশিক্ষা অভিযান ওই সিলিন্ডারগুলি রিফিলিংয়ের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি। এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের করণীয় বিষয়ে কোনও নির্দেশ বা আর্থিক অনুদান দেওয়া হযনি। ফলে জেলার প্রায় সমস্ত স্কুলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বেহাল হযে রয়েছে। এনিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন।

- Advertisement -

পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী এপি বিদ্যালযে প্রধান শিক্ষক নিখিলচন্দ্র দাস বলেন, ‘এসআই অফিস মারফত দুটি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার পেয়েছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেগুলি রিফিল করিযে দেবে বলে জানি। কিন্তু, কয়েক বছর কেটে গেলেও তা করা হয়নি। স্কুলে ১৫৫ জন পড়ুযা রয়েছে। স্কুলের নিরাপত্তার জন্য অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার প্রযোজন।’ মোয়ামারি তত্ত্বনাথ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সুজিত দাস বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারগুলির মেয়াদ অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়েছে। সেগুলি কোথা থেকে কীভাবে রিফিল করাব সে বিষয়ে কোনও নির্দেশ পাইনি। এক্ষেত্রে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওযা উচিত।’ গৌরাঙ্গবাজার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কান্তেশ্বর বর্মন জানান, তাঁদের স্কুলেও মেযাদ উত্তীর্ণ সিলিন্ডার রয়েছে।

পড়ুযাদের অভিভাবক আশু দাস, ব্রজেন সরকার, হামিদ আলি সহ আরও অনেকের অভিযোগ, স্কুলে অগ্নিকাণ্ড হলে দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছাতে কিছুটা সময লাগবে। প্রাথমিকভাবে আগুন মোকাবিলার জন্য স্কুলেই ব্যবস্থা রাখা উচিত। স্কুলের বেহাল অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় সকলেই উদ্বিগ্ন। দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সমগ্র শিক্ষা অভিযানের কোচবিহার জেলা প্রকল্প আধিকারিক মহাদেব শৈব বলেন, প্রতিবছর স্কুলগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। সেই টাকা থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রিফিলিং করিযে নিতে পারে। প্রয়োজনে সিলিন্ডার বদলানোও যেতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষকেই উদ্যোগী হওযার আহ্বান জানান তিনি।

ছবি-মেয়াদ ফুরিয়েছে সিলিন্ডারের।

তথ্য ও ছবি-তুষার দেব