খবরের জের, খুদে খেলোয়াড় রত্নার পাশে দাঁড়ালেন অনেকেই

269

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ: জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পালের পর এবার রাজ্য সেরা খুদে খেলোয়াড় রত্নার পাশে দাঁড়ালেন চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র অধিকারী ও কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন ডঃ কল্যাণী পোদ্দার। দুজনেই বুধবার রত্নার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পৃথকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। পরেশবাবুর তরফে রত্না বর্মনের পরিবারকে নানা খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি নগদ পাঁচ হাজার টাকা রাজ্য সেরা খেলোয়াড় রত্নার হাতে তুলে দেন তিনি। অপরদিকে, কল্যাণীদেবী রত্নার বাড়িতে গিয়ে তার অভাব-অভিযোগের কথা মন দিয়ে শোনেন। কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের পক্ষ থেকে তিনি খাদ্যসামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস রত্না ও তার দিদি অর্পিতার হাতে তুলে দেন। এছাড়াও, করোনা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তাঁর পক্ষ থেকে রত্নার পাড়া-পড়শিদের মধ্যে মাস্কও বিলি করা হয়। তিনি ছাড়াও এআই আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, চ্যাংরাবান্ধা বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী বাবন কাহালি এক বস্তা চাল ও নগদ কিছু অর্থ রত্নার পরিবারকে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বর মাসে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুল থেকে রাজ্যস্তরের খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল রত্না বর্মন। কলকাতায় সাইয়ের প্রশিক্ষণের মাঠে ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দু’দিনব্যাপী রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক স্কুলসমূহের এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বালিকাদের ‘খ’ বিভাগে একশো মিটার দৌঁড়ের ইভেন্টে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে রত্না বর্মন। সে সময় নানা মহল থেকে সংবর্ধিত করা হয় এই খুদে খেলোয়াড়কে। কিন্তু বর্তমানে দু’বেলা পেটের অন্ন জোগাতেই হিমশিম অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁদের। রত্নার বাবা নেই। মা দিল্লিতে পরিচারিকার কাজ করেন। উত্তরবঙ্গ সংবাদে রত্নাদের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হতেই নানা মহল থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -