অঙ্গনওয়াড়ির খাদ্যসামগ্রী বিলি থমকে উত্তরের তিন জেলায়

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : রাজ্য থেকে নির্দেশ না আসায় এ মাসে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খাদ্যসামগ্রী বিলি হয়নি। চলতি মাসের ১৮ দিন পার হয়ে গেলেও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি থেকে শিশু ও মায়েদের জন্য বরাদ্দ চাল, ডাল সহ অন্য খাবার দেওয়া হয়নি। উত্তরের তিন জেলা কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি মিলে সাত লক্ষের বেশি উপভোক্তা রয়েছে আইসিডিএস-এর অধীনে। চলতি মাসের অর্ধেক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও খাদ্যসামগ্রী না পেয়ে ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা। রাজ্যের শিশু ও নারীকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

আইসিডিএস-এর অধীনে জেলায় জেলায় ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সি  শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকার সন্তানসম্ভবা এবং প্রসূতিদেরও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন চালু হওয়ার পর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি সরকারি নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে, গত এপ্রিল থেকে মাসের প্রথমদিকে কেন্দ্রগুলির উপভোক্তাদের এক লপ্তে চাল, আলু, ডাল বিতরণ শুরু হয়। কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখ পার হয়ে গেলেও এখনও জেলায় কোনও সেন্টার থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়নি। জানা গিয়েছে, প্রতি মাসে কলকাতা থেকে জেলাগুলিতে নির্দেশ আসে কী খাবার, কতটা পরিমাণে দেওয়া হবে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে সেই নির্দেশিকা এখনও রাজ্য থেকে না আসায় জেলাগুলি তাদের কেন্দ্রগুলিতে খাদ্যসামগ্রী বিলির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারছে না। তবে কী কারণে এই পরিস্থিতি তার উত্তর অবশ্য কারও কাছে নেই।

- Advertisement -

বিভিন্ন জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে তাঁরা প্রস্তুত আছেন। নির্দেশিকা এলেই সেই অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হবে। কোচবিহার জেলায় বর্তমানে ৩,৯৮৮টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু রয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৭২ হাজার শিশু এবং ৫০ হাজারের বেশি সন্তানসম্ভবা ও প্রসূতি রয়েছেন উপভোক্তা হিসাবে। আলিপুরদুয়ার জেলায় ৩,১৫৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১ লক্ষ ৫২ হাজার শিশু, সন্তানসম্ভবা ও প্রসূতি উপভোক্তা রয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলায় ৩,৯৩৬টি কেন্দ্রে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার  শিশু, সন্তানসম্ভবা ও প্রসূতি উপভোক্তা রয়েছেন। কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) জ্যোতির্ময় তাঁতি বলেন, এখনও রাজ্য থেকে নির্দেশ আসেনি। এলেই সামগ্রী বিতরণ করা হবে। সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে।