রাজ্য ছোলা না পাঠানোয় খাদ্যসামগ্রী বিলি থমকে

537

কোচবিহার : রাজ্য থেকে ছোলা না আসায় জেলায় জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে খাদ্যসামগ্রী বিলি আটকে গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হতে চললেও এখনও কয়েক লক্ষ উপভোক্তা খাবার না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কেন সময়মতো বরাদ্দ হচ্ছে না তা নিয়ে অভিযোগে সরব হয়েছেন উপভোক্তাদের একাংশ। এক্ষেত্রে সরকারি টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের শিশু ও নারীকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজাকে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আইসিডিএস প্রকল্পের দাযিত্বে থাকা আধিকারিকরা অবশ্য স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাইছেন না। তবে ছোলা না আসায় যে সমস্যা হচ্ছে তা স্বীকার করছেন অনেকেই।

অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের প্রত্যেক উপভোক্তাকে চাল, ডালের সঙ্গে এককেজি করে ছোলা দেওয়া হচ্ছে। সেই ছোলা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল এসেন্সিয়াল কমোডিটিস সাপ্লাই কর্পোরেশন লিমিটেড (ইসিএসসি)। সেই ছোলা প্রথমে জেলার বিভিন্ন ব্লকে থাকা আইসিডিএসের গোডাউনে আসবে। সেখান থেকে বিভিন্ন সেন্টারে যাবে। এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকদিন লাগবে। চলতি মাসে হাতে থাকা ছদিনে সমস্ত কাজটি সম্ভব না হলে আদৌ এই মাসে সেন্টারগুলোয় খাবার দেওয়া হবে কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলা মিলে আইসিডিএস প্রকল্পের অধীনে সাত লক্ষের বেশি উপভোক্তা রয়েছেন। চলতি মাস প্রায় শেষ হতে চললেও খাদ্যসামগ্রী না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন উপভোক্তাদের একাংশ। কোচবিহার জেলায় বর্তমানে ৩ হাজার ৯৮৮টি অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার চালু রয়েছে। তাতে প্রায় ২ লক্ষ ৭২ হাজার শিশু এবং ৫০ হাজারের বেশি সন্তানসম্ভবা ও প্রসূতি রয়েছেন। আলিপুরদুয়ার জেলায় ৩ হাজার ১৫৭টি সেন্টার চালু রয়েছে। তাতে প্রায় ১ লক্ষ ৫২ হাজার শিশু ও মা উপভোক্তা। জলপাইগুড়ি জেলায় ৩ হাজার ৯৩৬টি সেন্টার খোলা রয়েছে। তাতে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার শিশু ও মা উপভোক্তা রয়েছেন।

- Advertisement -

আই সিডিএস প্রকল্পের অধীনে জেলায় জেলায় হাজার হাজার অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার চলে। এই সেন্টারগুলো থেকে ছমাস থেকে শুরু করে ছবছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া এলাকার সন্তানসম্ভবা এবং প্রসূতিদেরও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। করোনাকালে লকডাউন চালু হওয়ার পর সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর এপ্রিল মাস থেকে উপভোক্তাদের চাল-ডাল-আলু বিতরণ শুরু হয়। পরে ছোলা যুক্ত হয়। প্রতি মাসের প্রথমদিকে এই বিতরণ প্রক্রিয়া চলে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখ পার হয়ে গেলেও এখনও কোনও সেন্টার থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়নি। জানা গিয়েছে, ছোলা না আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।