স্বেচ্ছায় সাঁকো বানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা

214

ক্রান্তি, ২৫ জুন : খুলনাই নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে পুরোনো সাঁকো। প্রশাসনের সাঁকো তৈরির কোনও গরজ নেই। তাই নদী পারাপার করতে গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো বানাচ্ছেন। ঘটনাটি মাল ব্লকের চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাউস ক্যাম্পে। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে হাজারের উপর গ্রামবাসী পাকা সেতুর জন্য দরবার করেও কোনও সুফল পাননি। বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগেই নদী পারাপারে সাঁকো বানাচ্ছেন তাঁরা।

শীতকালে নদীতে জল না থাকায় নদী পারাপারে গ্রামবাসীদের সেভাবে কোনও সমস্যা হয না। কিন্তু বর্ষা এলেই গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। নদীর স্রোতে বাঁশের সাঁকো ভেসে যায়। শুধু তাই নয়, বর্ষায় খুলনাই নদীর জলে হাউস ক্যাম্পকে প্লাবিত করে। ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে হয় বাসিন্দাদের। প্রশাসনের উপরমহলে এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই দুই সমস্যার কথা গ্রামবাসীরা বহুবার জানালেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। এবার বর্ষা আসতে না আসতেই জলের তোড়ে বাঁশের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। বাধ্য হযে গ্রামবাসীরা কলার ভেলায় করে কিছুদিন নদী পারাপার করেছেন। শেষে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে বাঁশের সাঁকো বানানো শুরু করেছেন। পাকা সেতু না থাকায় বর্ষার রাতে রাতবিরেতে গ্রামের কোনও ব্যক্তি অসুস্থ হযে পড়লে অ্যাম্বুল্যান্সও আসতে পারে না। নদীর অপর প্রান্তে একটি শিশুশিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। হাউস ক্যাম্পের প্রায় শতাধিক পড়ুযা সেখানে পড়ে। পাকা সেতু না থাকায় বর্ষার সময় স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। গ্রামবাসী তবিবর ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের সাঁকো ছাড়া আমাদের কোনও গতি নেই। পাকা সেতুর জন্য আমরা বহুবার প্রশাসনের কাছে দরবার করেও কোনও সুরাহা হয়নি। প্রতিবার বর্ষায় নদীতে জল বাড়লেই আমাদের ঘরছাড়া হতে হয়। অপর গ্রামবাসী শরিফুল ইসলাম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্বল বাঁশের সাঁকো দিয়ে আমরা পারাপার করি। কয়দিন আগেই পুরোনো বাঁশের সাঁকোটি জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় নতুন করে বানানো হয়েছিল। গত কয়েকদিন আগে নদীতে জল বাড়তেই সেই সাঁকোটি ভেসে চলে গেল। এখন নতুন করে আবার সাঁকো নির্মাণ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনুকূল বিশ্বাস বলেন, ‘হাউস ক্যাম্পের জনবসতি খুব বেশি নেই। এছাড়া জলের প্রচণ্ড স্রোত থাকায় বর্ষার সময় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করাও ঝুঁকিপূর্ণ। পঞ্চায়েতের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় পাকা সেতু করা সম্ভব নয়। তবে অন্য কোনও দপ্তরের অনুদান পেলে অবশ্যই সেতু নির্মাণ করা হবে।

ছবি- সাঁকো বানিয়ে নিচ্ছেন গ্রামবাসী।

তথ্য ও ছবি- কৌশিক দাস